বিভাজন কখনোই ইতিহাস মুছে ফেলতে পারে না!

in Incredible India15 hours ago

1000086320.jpg

জয়সেলমের দুর্গ/সোনার কেল্লা!

আজকের লেখাটিকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করতে পারেন, আবার চাইলে তথ্য সংক্রান্ত লেখা হিসেবেও পড়তে পারেন!

সম্পূর্ণটাই ছেড়ে দিলাম সেই সকল পাঠক পাঠিকাদের উপর যাদের নজরে লেখাটি পড়বে!
ছবিগুলো দেখলে আমার মনে যে অনুভূতি কাজ করে, আজকে লেখার শীর্ষক হিসেবে সেটাই বেছে নিয়েছি!

প্রথম ছবিটির সাথে একাধিক ইতিহাস জড়িয়ে আছে, যদি ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখি তাহলে উল্লেখযোগ্য হলো এই সোনার কেল্লার নির্মাণ, ভাবা যায় ১১৫৬ সালে রাজপুত দ্বারা নির্মিত হলুদ বেলে পাথরে নির্মিত এই মহল আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে!

1000004919.jpg

যখন ছিল না এখনের মত আধুনিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার!
এই মহলের আরেকটি গুরুত্ব হলো, বাংলার স্বনামধন্য নির্দেশক যিনি অস্কার পুরস্কার বিজয়ী, সেইসত্যজিৎ রায় নির্মিত ছবি

"সোনার কেল্লা!"
যার শুটিং এখানেই হয়েছিল।

কাজেই, এই জয়সালমির দুর্গ কিংবা সোনার কেল্লা একাধিক গুরুত্ব বহন করে সেটা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই!

ভারতের প্রায় প্রতিটি রাজ্যেই বহু ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায় আর ঠিক সেই কারণেই আমার কাছে এই দেশ তথা আমার রাজ্যের বাড়তি গুরুত্ব রয়েছে।


  • এবার দ্বিতীয় ছবির বিষয় নিয়ে কিছু তথ্য তুলে ধরবার প্রয়াস করছি!

1000086319.jpg

পদ্মিনী প্যালেস!

ইতিহাস পড়তে অনেকেই ভালবাসেন না, কিন্তু সিনেমায় অনেকেই রুচি রাখেন, কাজেই এই জায়গার বিষয় উল্লেখ করছি, ভারতীয় ছবি

"রানী পদ্মাবত"
এর নাম করে, যেখানে রাণীর ভূমিকায় ছিল, দীপিকা পাড়ুকোন, এবং ১৪ দশকে চিত্তরগড় এর রাজা রাওয়াল সিং যিনি ছিলেন রানী পদ্মাবত কিংবা পদ্মিনীর স্বামী, ছায়াছবিতে সেই ভূমিকায় অভিনয় করেছেন শাহিদ কাপুর!

ছায়াছবিটি দেখলে খানিক আন্দাজ করতে পারবেন আলাউদ্দিন খিলজী যার ভূমিকায় রণবীর সিং অভিনয় করেছেন, কি পরিমান পাগল ছিলেন রানী পদ্মাবত কিংবা পদ্মিনীর ভালোবাসায়!

কথিত আছে, এই প্রাসাদেই আলাউদ্দিন খিলজিকে নিকটবর্তী একটি ভবন থেকে আয়নায় রানি পদ্মিনির প্রতিবিম্ব দেখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

সুযোগ পেলে ছায়াছবিটি দেখবেন, যদি ইতিহাসের প্রতি খানিক আগ্রহ থাকে।
কত ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে এই সমস্ত ইমারত তার অন্ত নেই!


  • চলুন ছবির হাত ধরে এগিয়ে খুঁজে দেখি তৃতীয় ছবির অন্তরালের খানিক লুকিয়ে থাকা ইতিহাসকে!

1000086318.jpg

চিত্তরগড় এর বিজয়স্তম্ভ!

১২২ ফিট উচ্চতার মিনারটি ভগবান বিষ্ণুকে উৎস্বর্গ করে নির্মাণ করা হয়েছিল, কারণ?
মুহাম্মদ খিলজীর দ্বৈত বাহিনীকে পরাজিত করেছিলেন রানা কুম্ভ, এবং তার এই বিজয়ের পর তিনি এই বিজয় স্তম্ভ নির্মাণ করেন।

জানেন, এই লেখাগুলো যখন লিখছি তখন মনে মনে ভাবছি, যদি একটা টাইম মেশিন থাকতো, এবং সেটা নিয়ে অতীত পরিদর্শনের সুবিধা থাকতো, আমি একবার ঐতিহাসিক যুগ দেখতে যেতাম সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই!

কত যে প্রশ্ন আমার মনে উদ্বেলিত হয় এই সমস্ত ইমারত দেখলে লিখে শেষ করা যাবে না!
বিস্ময় হই ভেবে, কি অভূতপূর্ব বুদ্ধিমত্তার নিদর্শন!

এত উঁচু একটি স্তম্ভ নির্মাণ, সেটাও ওই ১৪৪২ থেকে ১৪৪৯ অর্থাৎ সাত বছর সময়সীমার মধ্যে!
এইটুকু সময় কিছুই নয়, যেখানে ছিল না আজকের মতো আধুনিক যান্ত্রিক সুবিধা, কি তাই না?


লিখতে থাকলে হয়তো লিখতেই থাকতে হবে, কাজেই এবার লেখার হাত ধরে এগিয়ে গিয়ে আপনাদের মাঝে তুলে ধরছি মুবারক মহল কিংবা সিটি প্যালেস সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য!

1000086317.jpg

মুবারক মহল!

প্রথমে জানিয়ে রাখি বর্তমানে এটি টেক্সটাইল হাব করা হয়েছে, এবং পাশাপশি এটি পর্যটকদের পরিদর্শনের জন্য মিউজিয়াম হিসেবেও রাখা হয়েছে।

এবার জানাই, জয়পুরের এই মহলে রয়েছে মহারাজা মাধব সিং এর পরিহিত একটি ড্রেস, যার উচ্চতা ছিল ছয় ফুটের বেশি এবং কথিত আছে তিনি ১০০ টির অধিক রুটি খেতেন!

আজকের এই ডায়েট এর যুগে শুনে অবাক হচ্ছেন না?
এটাই মজার বিষয়, সময়ের হাত ধরে আমরা আধুনিক হয়েছি বটে কিন্তু বাজারের খাবার আমাদের শরীরের অভ্যন্তরকে এক্ প্রকার ঝাঁঝরা করে ফেলেছে!

সেই সময় মানুষ ছিল কঠোর পরিশ্রমী, পাশাপশি যন্ত্রের আধিক্য কম থাকায় মানুষকে কায়িক পরিশ্রম করতে হতো, তাই সেই ঘরোয়া খাবারের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছিল না বললেই চলে!

রাজপুত তথা মুঘল আদলে নির্মিত এই মহল আজও বহু কাহিনী বহন করছে নিজের মধ্যে!
তাহলে আজকে এই পর্যন্ত, আশাকরি যারা পড়বেন লেখাটি তাদের ভালো লাগবে, আমার লেখায় চোখ রাখুন, ভিন্ন স্বাদের বিষয় সম্পর্কে জানতে!

1000010907.gif

1000010906.gif