ডিপ্রেশন।।২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
হ্যালো বন্ধুরা,
হতাশা (বিশেষ করে ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন) “ইচ্ছাশক্তির অভাব” নয়—এটা মস্তিষ্ক, শরীর ও পরিবেশের জটিল পারস্পরিক প্রভাবের ফল।আধুনিক গবেষণা বলছে, জেনেটিক, জৈবিক, মানসিক ও সামাজিক অনেক কারণ একসাথে কাজ করে—একজনের ক্ষেত্রে যেটা প্রধান, অন্যজনের ক্ষেত্রে সেটা নাও হতে পারে।
মস্তিষ্কে মুড নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি নিউরোট্রান্সমিটার (যেমন সেরোটোনিন,নরএপিনেফ্রিন, ডোপামিন) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।আগে “কেমিক্যাল ইমব্যালান্স” বলে সরলভাবে বোঝানো হতো,কিন্তু আজ বোঝা যায় ব্যাপারটা বেশি জটিল—শুধু এক-দুইটা কেমিক্যাল কমবেশি নয়, বরং মুড-রেগুলেশন সার্কিটের কাজকর্ম, রিসেপ্টর, সিগনালিং—সব মিলিয়ে পরিবর্তন হয়।
দীর্ঘদিনের চাপ/স্ট্রেসে শরীরের HPA axis (হাইপোথ্যালামাস–পিটুইটারি–অ্যাড্রিনাল) অতিরিক্ত সক্রিয় থাকতে পারে, ফলে স্ট্রেস-হরমোনের ওঠানামা “স্বাভাবিক” রেঞ্জে ফেরত আসতে দেরি হয়।এই ক্রনিক স্ট্রেস-রেসপন্স মস্তিষ্কের ঘুম, শক্তি, মনোযোগ, স্মৃতি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে—এটা হতাশার ঝুঁকি বাড়ায়।
আরেকটি বড় আলোচ্য বিষয় হলো ইনফ্ল্যামেশন (প্রদাহ)।অনেক গবেষণায় দেখা যায়—কিছু মানুষের ডিপ্রেশনে দেহের ইমিউন সিস্টেম/ইনফ্ল্যামেটরি সিগন্যালিং বাড়তি সক্রিয় থাকে যা মুড, ক্লান্তি, ঘুম ও “আনন্দ পাওয়ার ক্ষমতা” (anhedonia) কমার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।তবে এটা সবার ক্ষেত্রে একরকম নয়—ডিপ্রেশনকে এখন অনেকটা “এক রোগ, বহু পথ” হিসেবে দেখা হয়। ([PubMed][4])
নিউরোপ্লাস্টিসিটি (মস্তিষ্কের শেখা/অভ্যাস বদলানোর ক্ষমতা) ও ব্রেইন-নেটওয়ার্ক (যেমন ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক, ইমোশন রেগুলেশন সার্কিট)–এর কার্যকারিতাতেও পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যায়।ফলে নেগেটিভ চিন্তা বারবার ঘুরতে থাকা, সিদ্ধান্ত নিতে কষ্ট, মনোযোগ কমে যাওয়া—এগুলো শুধু “ভাবনা” নয় বরং মস্তিষ্কের নেটওয়ার্ক লেভেলেরও একটা অংশ হতে পারে।
জেনেটিক ও এপিজেনেটিক কারণও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের মধ্যে ডিপ্রেশনের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে,কিন্তু জিন একাই সব সিদ্ধান্ত নেয় না—শৈশবের ট্রমা, দীর্ঘ স্ট্রেস, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, ঘুমের সমস্যা ইত্যাদি পরিবেশগত বিষয় জিনের “এক্সপ্রেশন” বদলে দিতে পারে (এপিজেনেটিক প্রভাব)।তাই অনেক সময় দেখা যায়—একই পরিবেশে সবাই ডিপ্রেশনে যায় না, আবার ভালো পরিবেশেও কারও ডিপ্রেশন হতে পারে।
শেষে, শরীরের কিছু মেডিক্যাল কন্ডিশন, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, নিউরোলজিক্যাল অসুখ, হরমোনাল পরিবর্তন, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং সবচেয়ে সাধারণভাবে ঘুমের দীর্ঘদিনের গোলমাল—এসবও হতাশার সাথে জড়িত থাকতে পারে বা ডিপ্রেশনকে বাড়িয়ে দিতে পারে।
যদি তোমার (বা কাছের কারও) হতাশা ২ সপ্তাহের বেশি থাকে, দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব ফেলে বা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা আসে—তাহলে এটা “সাধারণ মন খারাপ” না-ও হতে পারে; পেশাদার সাহায্য (ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট/সাইকিয়াট্রিস্ট) নিলে সবচেয়ে ভালো। WHO-ও বলে ডিপ্রেশনের কার্যকর চিকিৎসা আছে—থেরাপি ও প্রয়োজন হলে ওষুধ।
VOTE @bangla.witness as witness

OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |


Beauty of Creativity. Beauty in your mind.
Take it out and let it go.
Creativity and Hard working. Discord





Always You Happy i am praying for you 🙏
People with depression need care and comfort from family and friends, and they need a pleasant atmosphere. They are particularly prone to relapse when they are alone.
愿抑郁症远离我们。
খুব সুন্দর ও তথ্যসমৃদ্ধ লেখা শেয়ার করেছেন দাদা। বিশেষ করে ডিপ্রেশনকে শুধু “মানসিক দুর্বলতা” না ভেবে জৈবিক, সামাজিক ও নিউরোলজিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করাটা গুরুত্বপূর্ণ। এখানে একটা বিষয় ভালো লাগলো আপনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে ডিপ্রেশন সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রকাশ পায় না, এটা বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি।সবমিলিয়ে, সচেতনতা তৈরির জন্য চমৎকার উদ্যোগ।ধন্যবাদ দাদা এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেয়ার করার জন্য। 🙏