বাংলার প্রাচীন মন্দিরের স্থাপত্য
Image Created by OpenAI
বাংলার মাটি শুধু নদী, ফসল আর লোকসংস্কৃতির জন্যই বিখ্যাত এটা আমরা বরাবরই জেনে এসেছি। কিন্তু আমাদের এই ভূমিতে যুগে যুগে সময়ের পরিবর্তন এর সাথে সাথে সৃষ্টি হয়েছে নানা স্থাপত্যকীর্তি, যার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হলো প্রাচীন মন্দিরসমূহ। আমাদের পশ্চিম বাংলায় এইরকম বহু মন্দির স্থাপত্য হয়েছে, যার মধ্যে তারাপিঠ এবং বিষ্ণুপুর অন্যতম। বাংলার মন্দির স্থাপত্য একদিকে যেমন ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতিফলন, তেমনই অন্যদিকে তা শিল্প, সমাজ ও ইতিহাসের এক মূল্যবান দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বাংলার প্রাচীন মন্দির স্থাপত্যের দিক থেকে বিষ্ণুপুর ও তারাপীঠের মন্দিরগুলোর স্থাপত্যিক গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলার মন্দির স্থাপত্য মূলত গড়ে উঠেছিল মধ্যযুগে, বিশেষ করে পাল, সেন আমলে। পরবর্তীকালে মল্ল রাজাদের শাসনামলে আরো বেশি গড়ে উঠেছিলো।
তবে তখনকার সময়ে বাংলার বিভিন্ন স্থাপত্যে পাথরের ব্যবহার কম ছিল, কারণ তখন পাথরের অভাব ছিল বাংলায়। ফলে বাংলায় মন্দির নির্মাণে প্রধানত ব্যবহার করা হতো পোড়া ইট, চুন-সুরকি, মাটির ফলক ও অলংকরণ। এই কারণে কিন্তু আমরা বাংলার মন্দিরগুলিতে যখন দর্শনের জন্য যাই, তখন আমরা পাথরের ভাস্কর্যের বদলে পাই টেরাকোটা শিল্পের বিভিন্ন অসাধারণ নিদর্শন। বিষ্ণুপুর ছিল মল্ল রাজাদের রাজধানী। মল্ল রাজারা তাদের শাসনামলে একের পর এক মন্দির নির্মাণ করে গিয়েছিলেন। বৈষ্ণব ধর্মের প্রভাবে গড়ে ওঠা এই মন্দিরগুলো বাংলার স্থাপত্য ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়ের সাক্ষী হয়ে আছে। আর তারাপীঠ হলো বাংলার অন্যতম প্রধান শক্তিপীঠ। এখানে তারা রূপে পূজিত হন মা কালী। তারাপীঠের মন্দির স্থাপত্যে সবথেকে আধ্যাত্মিক ভাব ও সাধনার পরিবেশ গুরুত্ব পেয়েছিলো।
