নীরব থাকাই কি সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ?
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
নীরব থাকাই কি সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ এই প্রশ্নটা নিয়ে আমি অনেকবার ভেবেছি। আমরা সব সময় শুনে আসি প্রতিবাদ করতে হলে মুখ খুলতে হয়, চিৎকার করতে হয়, রাস্তায় নামতে হয়। কিন্তু জীবনের কিছু সময়ে এমন পরিস্থিতি আসে যখন চুপ থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। তখন মনে হয় হয়তো এই নীরবতাই সবচেয়ে তীব্র প্রতিবাদ।সবাই মনে করে যে চুপ থাকা মানে মেনে নেওয়া। কিন্তু আসলে সব চুপ থাকা একরকম নয়। অনেক সময় মানুষ কথা না বলে বুঝিয়ে দিতে চায় যে আর কোনো কথার মানে নেই। যাকে নিয়ে কথা, সে বোঝার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। তখন মুখে যত যুক্তি-তর্কই বলা হোক না কেন, তাতে কোনো লাভ হয় না। তখন নীরব থাকাটাই সম্মান আর আত্মসম্মানের জায়গা হয়ে দাঁড়ায়।
আমার মনে হয়েছে, কিছু পরিস্থিতিতে চুপ থাকা মানে হেরে যাওয়া নয়, বরং নিজের সীমানা টেনে দেওয়া। সেই সীমানার ভেতরে আর কাউকে ঢুকতে দেওয়া যায় না। অনেকেই ভাবে যে কথা না বললে মানুষ দুর্বল হয়ে যায়। কিন্তু সত্যি বলতে, নীরবতা অনেক কঠিন। যখন ভেতরে ভেতরে কষ্ট, ক্ষোভ, অভিমান সব জমে থাকে, তখন চুপ করে থাকা মানে নিজেকে অনেক শক্ত রাখা।কিছু মানুষ আছে যারা আপনার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেবে না, আপনার কথা শুনে দেখাবে যেন কিছুই হয়নি। তাদের জন্য বারবার বোঝানোর চেয়ে নীরব থাকা ভালো। কারণ নীরবতা বুঝিয়ে দেয় যে আপনি আর আগের মতো চেষ্টা করতে চান না। আপনার ধৈর্যের সীমা শেষ।
নীরব প্রতিবাদ অনেক সময় সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। যখন আপনি কোনো কথা না বলে সরে যান, তখন সামনের মানুষটা নিজের ভিতরেই প্রশ্ন খুঁজতে থাকে। আপনার চুপ থাকার মধ্যে যে কষ্ট আর অভিমান থাকে, সেটা অনেক বেশি শক্তিশালী। মুখের কথায় যা বোঝানো যায় না, অনেক সময় নীরবতায় সেটা বোঝানো যায়।তবে সব সময় চুপ থাকাও সমাধান নয়। কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে, কোনো অপমানের বিরুদ্ধে কখনো কখনো স্পষ্টভাবে মুখ খুলতে হয়। কিন্তু যখন আপনি বুঝবেন আপনার কথা শুনে কেউ পরিবর্তন হবে না, বরং বারবার আপনাকে অপমানিত করবে, তখন চুপ থাকাটাই প্রয়োজন।
আমি মনে করি, নীরবতা একধরনের আত্মরক্ষা। এটা আপনাকে অকারণে তর্ক থেকে দূরে রাখে। আপনাকে আপনার সম্মান বাঁচাতে সাহায্য করে। তাই নীরব থাকা সব সময় দুর্বলতা নয়, অনেক সময় সেই নীরবতাই সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ।শেষ পর্যন্ত জীবনের অনেক বিষয়ে আমাদের বোঝা দরকার কবে কথা বলতে হবে আর কবে চুপ থেকে নিজের অবস্থান বুঝিয়ে দিতে হবে। কারণ সঠিক সময়ে সঠিক নীরবতাই মানুষের আসল শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।

