পুরনো দিনের ডায়েরি ( পর্ব ১৯ )
Image Created by OpenAI
আপনাদের সাথে "পুরনো দিনের ডায়েরি" গল্পের ১৯ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। তো এরপরে যখন স্টেশনে ট্রেন আসার ঘোষণা হলো, তখন বৃদ্ধ লোকটি বেঞ্চ ছেড়ে অন্যদিকে চলে গেলেন। বৃদ্ধ লোকটি প্ল্যাটফর্ম এর কিছুদূর যেতেই আবারো রাহুলের দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন- যদি কোনোদিন মালতিকে খুঁজে পাও, তাহলে বলো- তোমার বাবা কোনোদিন তাকে ভুলতে পারেনি। এরপর বৃদ্ধ লোকটি চলে গেলেন। রাহুল গালে হাত দিয়ে চিন্তিত মনে চুপ করে অনেকক্ষণ বসে থাকল। তার হাতে একদিকে বাবার ডায়েরি এখনো আছে, কিন্তু মনের মধ্যে আরো একটা অদৃশ্য ডায়েরির অস্তিত্ব অর্থাৎ মালতির। এই গল্প এখানেই শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কিছু গল্প শেষ হয় না।
কিন্তু রাহুলের মনের মধ্যে এখন একটাই প্রশ্ন যে, মালতির সেই ডায়েরি কোথায়? রাহুল এরপর ফিরে যাওয়ার জন্য ট্রেনের অপেক্ষা করছিলো। চন্দনপুর স্টেশন ছাড়ার সময় ট্রেনটা কেমন যেনো ধীরে ধীরে চলছিল। রাহুল জানালার ধারে বসে বাইরে তাকিয়ে ছিল, কিন্তু তার কাছে সবকিছুই ঝাপসা লাগছিল। মাথার ভেতরে শুধু সেই বৃদ্ধ লোকটার কথা, আর সেই অদৃশ্য ডায়েরির অস্তিত্ব ঘুরপাক খাচ্ছে। বৃদ্ধ লোকটি তো ডায়েরির কথা বলে গেলেন, কিন্তু সেটা কিভাবে পাব! বাবা যে নিজের জীবনের সব কথা আমাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন, সেটা মেনে নেওয়া অনেক কঠিন ছিল। কিন্তু তার থেকেও কঠিন ছিল এই সত্যটা মেনে নেওয়া যে, বাবা কাউকে কিছু না বলেই চলে গিয়েছিলেন।....
