অপরিচিত শহরে নিজের খোঁজ
কিন্তু জীবনের মজা এখানেই এই অচেনা শহরও আসলে একটা নতুন গল্পের শুরু। প্রথম প্রথম ভয় হয়, কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝি, এই শহরেই হয়তো আমার নতুন পরিচয় তৈরি হবে। প্রথমে দরজার বাইরে বের হতে সাহস লাগে। দোকানের লোকের সঙ্গে কথা বলতে সংকোচ লাগে। একটা চা অর্ডার করতে গিয়েও মনে হয়, আমার কথা কেউ বুঝবে না। তবু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু সহজ হতে শুরু করে।
অপরিচিত শহরের রাস্তাগুলোও আস্তে আস্তে চেনা হয়ে যায়। কোন মোড়ে গেলে ফুলের দোকান আছে, কোন রাস্তার শেষ প্রান্তে পুরনো লাইব্রেরি, কোন দোকানে সস্তায় চা পাওয়া যায় সব জানা হয়ে যায়। আর তখনই একটু একটু করে নিজের খোঁজ পাওয়া শুরু হয়।সবচেয়ে বড় কথা, এই অচেনা শহর আমাকে অনেকটা নিজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। বুঝি, আসলে আমার ভেতরে অনেক বেশি শক্তি আছে। একা থাকতে শিখি, নিজের ওপর নির্ভর করতে শিখি। রাতে অচেনা বিছানায় শুয়ে যখন দিনের শেষ আলোও নিভে যায়, তখন এক ধরনের শান্তি পাই। মনে হয়, আজও একটু এগিয়ে গেলাম।
কোনো শহরই আসলে চিরকাল অপরিচিত থাকে না। ধীরে ধীরে এখানকার মানুষের হাসিমুখ, রিকশাওয়ালার ডাক, দোকানদারের কথা সব আপন হয়ে যায়। আর এই শহরের ভিড়েই কখন যে নিজের হারিয়ে যাওয়া সাহস আর জীবনের আসল চেহারা খুঁজে পাই, সেটা টেরও পাই না।অপরিচিত শহর আমাকে শিখিয়ে দেয় নিজের খোঁজ পেতে হলে মাঝেমধ্যে সব চেনা জায়গা ছেড়ে অচেনার মধ্যে ডুবে যেতে হয়। তবেই বোঝা যায়, আসলে নিজের ভেতরের শক্তিটাই সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

