পুরনো দিনের ডায়েরি ( পর্ব ১৭ )
Image Created by OpenAI
আপনাদের সাথে "পুরনো দিনের ডায়েরি" গল্পের ১৭ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। তো কথাগুলো শোনার পরের থেকে রাহুল লোকটির দিকে আর সহজ ভাবে তাকাতেই পারছিল না। যাইহোক, এরপর লোকটি আবারো বলতে শুরু করলেন- তবে তোমার বাবা কাপুরুষ ছিলেন না, কিন্তু জীবনে নিজেকে খুব একা ভাবতেন। কথার মাঝে বৃদ্ধ লোকটি তার পকেট থেকে ভাঁজ করা একটা পুরোনো কাগজ বের করলেন। এটা মূলত শুধু একটা কাগজ ছিল না, এটা ছিল একটা চিঠি, যেটা মালতি রাহুলের বাবাকে লিখেছিল। তবে তোমার বাবা এই চিঠিটা নেয়নি, আমার কাছে এখনো সেইভাবে রিক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। রাহুলের হাত কাঁপছিলো চিঠিটা নেওয়ার সময়, কিন্তু সে সাহস করে নিলো।
হাতের লেখা পরিচিত নয় রাহুলের কাছে, আর এটা স্বাভাবিক। কারণ রাহুল মালতির হাতের লেখা কখনো দেখেনি। এখানে লেখা ছিল- আমি জানি, তুমি আসবে না। তবু আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করব। কারণ অপেক্ষা করাই হয়তো আমার শেষ অধিকার, এটা ছাড়া আমার আর কিছুই করার নেই, তোমার কাছে কোনো দাবিও নেই। পড়ার পরে রাহুলের চোখ যেনো ঝাপসা হয়ে আসলো, আসলে বিষয়গুলো এমনভাবে সব তার সামনে হচ্ছে, যে কোনোটাই সে মেলাতে পারছে না। বৃদ্ধ লোকটি বললো- তোমার বাবা সেদিন স্টেশনে এসেছিল এবং সেদিন মালতিও এসেছিল, কিন্তু তারা জানত, এটাই শেষ দিন তাদের। রাহুল তখন ফিসফিস শব্দে লোকটিকে বললো- ডায়েরিতে লেখা ছিল, সেদিন বাবা দূরে দাঁড়িয়ে ছিল। বৃদ্ধ লোকটি মাথা নাড়লো।....
