পাথরে খোদাইকৃত ভাস্কর্যের নীরব ভাষা

20250322_180800.jpg

কখনও কখনও এমন কিছু শিল্পকর্ম থাকে, যা কথা বলে না ঠিকই, কিন্তু নীরবে অনেক কিছু বলে যায়। কলকাতার ইকো পার্কে ঘুরতে গিয়ে তোলা এই দুইটি পাথরের ভাস্কর্য ঠিক তেমনই নীরব, কিন্তু গভীর অর্থে ভরা। এই ভাস্কর্য দুটো প্রথম দেখাতেই আলাদা করে নজর কাড়ে। আধুনিক পার্কের পরিবেশে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রাচীন শিল্পধারার ছাপ যেন আমাদের সময়ের সীমানা পেরিয়ে নিয়ে যায় বহু শতাব্দী পেছনে। এই ধরণের ভাস্কর্য আমাদের প্রাচীন সময়ের ভাস্কর্যের বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা দিয়ে থাকে। এখানে একটি স্তম্ভের উপর খোদাই করা মানবমুখ রয়েছে। মুখাবয়বটি খুব সূক্ষ্মভাবে গড়া, যার মধ্যে অনেক বিষয় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

যেমন- চোখে এক ধরনের স্থির দৃষ্টি, ঠোঁটে চাপা নীরবতা, আর মুখের গঠনে দৃঢ়তা। দেখে মনে হয়, এই মুখ যেন কোনো প্রহরীর। এর পরের ভাস্কর্যটি আরও রহস্যময়। এখানে দেখা যাচ্ছে একটি শুয়ে থাকা মুখ, যার চারপাশে জটিল নকশা ও অলঙ্করণ এর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মুখের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে যেন গভীর চিন্তায় ডুবে আছে। এছাড়া এই ভাস্কর্যে লোকশিল্প ও প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মাথার উপরের অংশে খোদাই করা নকশাগুলো মনে করিয়ে দেয় মধ্যযুগীয় স্থাপত্যের কথা। স্তম্ভের গায়ে খোদাই করা জ্যামিতিক নকশা শিল্পীর দক্ষতার পরিচয় দেয়।