রহস্যময় ভাস্কর্য
ইকো পার্ক কিন্তু শুধু একটি আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র নয়, এখানে প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গে শিল্প ও ইতিহাসের এক নীরব গল্পও চলে। গত একটি পোস্টে কিছু ভাস্কর্যের বিষয়ে বলেছিলাম। আজকেও কিছু ভাস্কর্য নিয়ে এসেছি এই ইকো পার্কের থেকে। এখানে এক নিরিবিলি কোণে দেখা মেলে কিছু এমন ভাস্কর্যের, যেগুলো প্রথম দেখায় চোখে পড়ে না, কিন্তু মনোযোগ দিয়ে তাকালে গভীর ভাবনার জন্ম দেয়। এইসব ভাস্কর্য আবার এমন যে একবার তাকালে দৃষ্টি আকর্ষণ নাও হতে পারে। কিন্তু এইসব ভাস্কর্যের মধ্যে অনেক বিষয় লুকিয়ে থাকে। এইসব অনেক অর্থবহুল। এখানে একটিতে স্তম্ভ ও পশুমুখের প্রতীকী রূপ তুলে ধরা হয়েছে।
এখানে একটি পাথরের স্তম্ভ, যার শীর্ষদেশে দু’পাশে খোদাই করা রয়েছে পশুর মুখমন্ডল। মুখগুলো দেখলে কিছুটা ষাঁড় বা মেষজাতীয় প্রাণীর মতো মনে হবে, যা বহু প্রাচীন সভ্যতায় প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হত। স্তম্ভের গঠন বেশ সরল হলেও উপরের অংশের খোদাই অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে করা। এরপরে মানবমুখ ও সাপ এর একটি ভাস্কর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা একটা রহস্যের প্রতীক হিসেবে ফুটে উঠেছে। তবে এটি বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকে। এখানে পাথরের উপর একটি মানবমুখ খোদাই করা, যার মাথার উপর একটি সাপ পেঁচিয়ে আছে। বেশ দারুণ একটা ভাস্কর্য খোদাই করেছে শিল্পী। নিখুঁত যাকে বলে।


Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟
ইকো পার্ক সত্যিই প্রমাণ করে যে সৌন্দর্য সব সময় চিৎকার করে কথা বলে না। কিছু শিল্প নীরব থাকে, কিন্তু মনোযোগী চোখের কাছে গভীর অর্থ খুলে দেয়।
এই স্তম্ভ আর পশুমুখের ভাস্কর্য যেন প্রাচীন শক্তি, বিশ্বাস আর প্রতীকের ভাষায় কথা বলে। সভ্যতা বদলেছে, সময় বদলেছে, কিন্তু প্রতীকগুলো এখনো আমাদের ভাবতে বাধ্য করে। আর মানবমুখের উপর পেঁচানো সাপ—এটা শুধু একটি ভাস্কর্য নয়, এটা রহস্য, জ্ঞান, ভয় আর ক্ষমতার এক নিঃশব্দ প্রকাশ।
এই ধরনের শিল্পই সাধারণ দর্শক আর গভীর পর্যবেক্ষকের মধ্যে পার্থক্য গড়ে তোলে। ইকো পার্কে হাঁটার সময় প্রশ্নটা একটাই—আপনি কি শুধু দেখে যাবেন, নাকি থেমে বুঝতে চাইবেন?