শুভ-অশুভ বিশ্বাসের সামাজিক ভূমিকা
Image Created by OpenAI
মানুষের মধ্যে আজকাল একটা বিষয় খুব দেখা যায় অর্থাৎ মানুষ যেকোনো বিষয়কে যুক্তি দিয়ে চালিয়ে দেয়। কিন্তু বিষয় হলো, সবকিছু বাস্তবে যুক্তি দিয়ে হয় না, কিছু আশ্বাস বিশ্বাসের মাধ্যমেও বেঁচে থাকে। এই বিশ্বাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো শুভ-অশুভ ধারণা। যেমন- সকালবেলা হাঁচি, যাত্রার আগে কালো বিড়াল, নতুন কাজের আগে শুভ দিন দেখা বা বিপদের সময় কোনো বিশেষ প্রতীক এড়িয়ে চলা ইত্যাদি এইসবই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে গভীরভাবে প্রোথিত। এখন প্রশ্ন হলো- এগুলো কি শুধুই কুসংস্কার, নাকি সমাজে এর কোনো বাস্তব ভূমিকা আছে? আসলে শুভ-অশুভ বিশ্বাসের মূল উৎস মানুষের অনিশ্চয়তার ভয়।
কারণ আমাদের ভবিষ্যৎ অজানা, জীবন অনিয়ন্ত্রিত। এই পরিস্থিতিতে মানুষ কিছু নিয়মে ভরসা খোঁজে। যেমন-আজ দিনটা ভালো, এই কাজটা করলে বিপদ এড়ানো যাবে, ইত্যাদি এমন বিশ্বাস মানুষের মনে একধরনের মানসিক নিরাপত্তা তৈরি করে। তবে সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন বিশ্বাস যুক্তিকে ছাপিয়ে যায়। অর্থাৎ অশুভ ভেবে চিকিৎসা না করা, শুভ দিন না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়া ইত্যাদি এগুলো ব্যক্তিগত ও সামাজিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় অনেক সময়। তাই সমাজে শুভ-অশুভ বিশ্বাস থাকলেও তার সঙ্গে বিবেচনা ও যুক্তিবোধের সমন্বয় জরুরি।
