সেমিতে ভারত
নমস্কার বন্ধুরা,
টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ এর সুপার ৮ এ গতকাল ছিল, ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যেটা কার্যত কোয়ার্টার ফাইনাল, যে জিতবে সেই জায়গায় পাবে সেমিতে। স্বাভাবিক ভাবেই দুই দলের কাছেই সমান গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেমিতে ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে চলে যায় এবং পরবর্তীতে বিশ্বসেরার মুকুট ওঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাথায়। তাই গতকালের ম্যাচ শুরুর আগেই টানটান উত্তেজনা। একদিকে সাউথ আফ্রিকার সাথে সুপার ৮ এর প্রথম ম্যাচ হেরে মানসিক ভাবে কোণঠাসা ভারত, অন্যদিকে সাউথ আফ্রিকার সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হেরে বাড়তি চাপে ক্যারিবিয়ানরা। টসে জিতে ভারত বল করার সিদ্ধান্ত নেয়।
ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের স্বভাবসিদ্ধ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতেই শুরু করার চেষ্টা করে কিন্তু পাওয়ারপ্লেতে ভারতীয় বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে রানের গতি আকাশ ছুঁতে পারেনি। আর্শদ্বীপ - হার্দিক - বুমরাহ তিনজনেই দারুন লাইনে বল করতে থাকে। রান করা মোটেই সহজ ছিল না, ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার মাঝে মধ্যে লুস বল গুলো বাউন্ডারির বাইরে বের করে দিলেও রান চেপেই হচ্ছিল। বুমরাহর বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওপেনার রস্টন চেজের সহজ ক্যাচ মিস করে অভিষেক শর্মা। দশম ওভারে বরুণ চক্রবর্তীর বলে ক্যারেবিয়ানরা ক্যাপ্টেন শাই হোপ রূপে প্রথম উইকেট হারায়। তারপর ব্যাট করতে নামে ফর্মের তুঙ্গে থাকা শেমরন হেথমায়ার, নেমেই দারুন সব শট খেলে দলের রান মুহূর্তে বাড়িয়ে দেয়। রানের গতি সব আকাশ ছোঁয়া শুরু করেছে তখনই বুমরাহর বলে হেথমায়ার আউট হয়। মাঝের ওভারগুলোতে ম্যাচের মোড় ঘুরতে শুরু করে, যখন জেসন হোল্ডার আর রভম্যান পাওয়েল ঝড়ের গতিতে রান তুলতে থাকে। শেষ তিন ওভারে আর্শদ্বীপ - বুমরাহ ভারতকে খেলায় ফেরত আনে, দুজনের বুদ্ধিমান বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০০ রানের গন্ডির কাছে আটকে যায়, ২০ ওভার শেষে ১৯৫/৪। পঞ্চম জুটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাত্র ৩৫ বলে ৭৩ রান স্কোরবোর্ডে জোড়ে। আর্শদ্বীপের ১৯ তম ওভারে অভিষেক শর্মা পাওয়েলের আরেকটা সহজ ক্যাচ মিস না করলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আরো কম রানে আটকে যেতো। তবুও স্কোরটা ছিল যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
১৯৬ রানে বিশাল রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা ছিল অনিশ্চিতায় ভরা। ক্যারিবিয়ান দের ফাঁদে পড়ে অভিষেক শর্মা ফের অল্প রানে আউট হয়। ঈশান কিশান চালিয়ে খেলতে গিয়ে ক্যারিবিয়ান দের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে আউট হয়ে যায়। উল্টো পাশে সঞ্জু স্যামসন কিছুটা দ্রুত খেলে রানের গতি ঠিক রাখে এবং সূর্য্য যাদবের সাথে পার্টনারশিপ গড়ে তুলতে থাকতে। কোনো বাড়তি ঝুঁকি ছাড়াই সঞ্জু দায়িত্ববোধ নিয়ে ব্যাটিংয়ে করতে থাকে। সেই ক্রিজে দাঁড়িয়ে ভারতের ইনিংস গড়তে থাকে, অন্যদিকে সূর্য্য স্ট্রাইক রোটেশন করে সাপোর্ট দেয়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের দুর্দান্ত চাপা বোলিংয়ে রান করা মোটেও সহজে ছিলোনা। বিশাল লক্ষ্যের সামনে ক্যারিবিয়ান বোলাররা ধারাবাহিকভাবে ভারতের উইকেট নিতে থাকে। ভারত যখন কিছুটা চাপে পড়েছে যায় তখনই তিলক ভর্মার দ্রুত ২৭ রান ভারতীয় ফ্যানদের বাড়তি অক্সিজেন দেয় এবং সঞ্জু স্যামসন কিছুটা স্বস্তি পায়। সঞ্জু ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তুলতে থাকে যা ভারতকে শক্ত জায়গায় নিয়ে যায়। শেষ পাঁচ ওভারে ভারতের দরকার প্রতি ওভারে ১০ রান করে মোট ৫০ রান। ১৬ তম ওভারে ১৪ রান জুড়ে রান রেট আরো কমিয়ে নিয়ে আসে হার্দিক-সঞ্জু জুটি। ১৯ তম ওভারে হার্দিক পান্ডিয়া আউট হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলায় কিছুটা ফিরে আসার চেষ্টা করে কিন্তু শিবম দুবে ব্যাট হাতে নেমে পরপর দুটো চার মেরে খেলা ভারতের হাতের মুঠোয় এনে ফেলে। শেষ ওভারে ভারতের দরকার ছিল ৭ রান। সঞ্জু স্যামসন ২০ তম ছক্কা হাঁকিয়ে রানে সমতা করে ফেলে। পরের বলেই চার মেরে ভারতকে সেমিতে নিয়ে যায়।
"আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির প্রথম MEME Token : $PUSS by RME দাদা
"আমার বাংলা ব্লগের" প্রথম FUN MEME টোকেন $PUSS এখন SUNSWAP -এ লিস্টেড by RME দাদা
X-প্রোমশনের ক্ষেত্রে যে ট্যাগ গুলো ব্যবহার করবেন,
@sunpumpmeme @trondao $PUSS








