“ঘুমানোর আগে ‘৫ মিনিট ফোন দেখি’—তারপর হঠাৎ সকাল!”
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
আসলে ঘুমানোর আগে ফোন দেখা এখন প্রায় সবার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকে “একটু দেখি কে কী পোস্ট দিল” বলে শুরু করে, কেউ ভিডিও দেখতে যায়, কেউ আবার ছোট ছোট ভিডিওর জগতে এমন হারিয়ে যায় যে সময়ের অস্তিত্বই ভুলে যায়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো—আমরা সবাই শুরু করি খুব নির্দোষ একটা উদ্দেশ্য নিয়ে। “শুধু ৫ মিনিট!” কিন্তু এই ৫ মিনিট যেন ফোন কোম্পানির গোপন টাইম মেশিনে ঢুকে যায়, যেখানে সময় স্বাভাবিক নিয়মে চলে না।
ধরুন, আপনি ঠিক করলেন ঘুমানোর আগে একটু ফোন দেখবেন। প্রথমে একটা মজার ভিডিও সামনে এলো। হাসলেন। তারপর আরেকটা ভিডিও। এরপর একটা আবেগী পোস্ট। তারপর একটা খাবারের ভিডিও দেখে মনে হলো, “ইস! এখন যদি এটা খেতে পারতাম!” হঠাৎ আবার এমন একটা ভিডিও সামনে চলে আসে যেখানে কেউ রাত ২টায় ম্যাগি রান্না করছে। তখন ক্ষুধাও লেগে যায়। এরপর মনে হয়, “আচ্ছা, ফ্রিজে কিছু আছে নাকি দেখি!” এভাবেই ঘুমানোর প্রস্তুতি থেকে মানুষ রাতের অভিযানে নেমে পড়ে।
সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যাপার হলো ফোনের অ্যালগরিদম। মনে হয় যেন ফোনটা আমাদের মন পড়ে ফেলতে পারে। আপনি একটা ভিডিও দেখলেন—সঙ্গে সঙ্গে আরও দশটা একই ধরনের ভিডিও হাজির। আপনি ভাবলেন, “এটা দেখে অফ করবো।” কিন্তু সেই ‘শেষ ভিডিও’ নামক জিনিসটা বাস্তবে কখনো আসে না। প্রতিটা ভিডিওর পরই মনে হয়, “আরেকটা দেখি, এটা দেখে রাখি।” তারপর হঠাৎ সময় দেখে মনে হয়—“কি! রাত ৩টা? একটু আগেই তো ১১টা ছিল!”
মজার বিষয় হলো, ঘুমানোর আগে ফোন দেখার সময় মানুষ নিজেকে অনেক বেশি দায়িত্বশীল ভাবে। যেমন কেউ রাত ১টায় হঠাৎ ভাবলো, “চলো একটু মোটিভেশনাল ভিডিও দেখি, কাল থেকে জীবন বদলে ফেলবো।” আবার কেউ “পড়াশোনার টিপস” ভিডিও দেখতে গিয়ে হঠাৎ কমেন্টে ঝগড়া দেখতে শুরু করে। কেউ স্বাস্থ্য সচেতন হতে গিয়ে ব্যায়ামের ভিডিও দেখে, কিন্তু বিছানায় শুয়েই দেখে—উঠে কিছুই করে না। মনে হয় যেন ফোন হাতে মানুষ নিজের জীবনকে বদলে ফেলার প্ল্যান সবচেয়ে বেশি রাতেই করে, কিন্তু সকাল হলে সব ভুলে যায়।
আরেকটা পরিচিত ঘটনা হলো—ঘুমানোর আগে একটা মেসেজ রিপ্লাই দিতে গিয়ে পুরো কথোপকথন শুরু হয়ে যায়। আপনি শুধু “ঠিক আছে” লিখতে গিয়েছিলেন, কিন্তু হঠাৎ ২ ঘণ্টা কেটে গেছে। এর মধ্যে জীবনের সমস্যা, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা, পুরনো স্মৃতি—সব আলোচনা শেষ! শেষে একজন বলে, “আচ্ছা ঘুমাই।” তারপরও আরও ২০ মিনিট “ঠিক আছে, বাই” চলতেই থাকে।
সবচেয়ে হাস্যকর ব্যাপার হলো, সকালে উঠে নিজের উপর ভয়ানক রাগ হয়। অ্যালার্ম বাজে, চোখ খুলতেই মনে হয় শরীর যেন যুদ্ধ করে এসেছে। তখন নিজের মনেই প্রতিজ্ঞা করি—“আজকে কিন্তু তাড়াতাড়ি ঘুমাবো, আর ফোন হাতে নিবো না।” কিন্তু রাত আসলেই আবার সেই একই গল্প—“শুধু ৫ মিনিট ফোন দেখি…”
এই অভ্যাস শুধু মজার না, অনেক সময় ক্ষতিকরও হয়ে দাঁড়ায়। কারণ ঘুম কম হলে মেজাজ খিটখিটে হয়, সকালে মাথা ভার লাগে, কাজে মন বসে না। পড়াশোনা বা কাজেও প্রভাব পড়ে। কিন্তু মজার বিষয় হলো—এসব জানার পরও আমরা ফোন নামাতে পারি না। কারণ ফোন যেন একটা অদৃশ্য টান তৈরি করে রেখেছে। একটু না দেখলে মনে হয় কিছু একটা মিস করে ফেলছি।
আগের সময় মানুষ ঘুমানোর আগে গল্পের বই পড়তো, পরিবারের সঙ্গে কথা বলতো, বা তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যেত। আর এখন? “একটু ফোন দেখি” বলেই রাত শেষ হয়ে যায়। এমনকি অনেক সময় ফোন হাতে নিয়েই ঘুমিয়ে পড়ি, আর সকালে উঠে দেখি ফোন বুকের উপর পড়ে আছে। কেউ কেউ তো আবার হেডফোন কানে লাগিয়ে ঘুমায়, সকালে উঠে দেখে একটা দিকের হেডফোন পৃথিবী থেকে নিখোঁজ হয়ে গেছে!
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো—এই সমস্যাটা প্রায় সবার। আপনি একা নন। ছাত্র, চাকরিজীবী, বড়, ছোট—প্রায় সবাই এই “৫ মিনিট ফোন” নামক ফাঁদে পড়ে। কিন্তু আমরা কেউ স্বীকার করতে চাই না। সবাই ভাবে, “আমি নিয়ন্ত্রণে আছি।” অথচ বাস্তবতা হলো—ফোনই আমাদের নিয়ন্ত্রণ করছে।
তাই হয়তো এখন সময় এসেছে নিজের সঙ্গে একটু চুক্তি করার। যদি সত্যিই ঘুম ঠিক রাখতে চাই, তাহলে ঘুমানোর আগে ফোনটা একটু দূরে রাখা দরকার। হয়তো প্রথম কয়েকদিন কষ্ট হবে, কিন্তু অন্তত সকালে উঠে নিজেকে জম্বির মতো লাগবে না। আর যদি ফোন হাতে নিয়েও ফেলেন, তাহলে একটা কথা মনে রাখবেন—“মাত্র ৫ মিনিট” নামের কথাটার উপর কখনো ভরসা করবেন না। কারণ এই ৫ মিনিটই এমন এক রহস্য, যা চোখের পলকে পুরো রাত গিলে খেয়ে সকালে নিয়ে যায়!
শেষে একটা কথা বলা যায়—আজ রাতেও যদি আপনি ভাবেন, “শুধু ৫ মিনিট ফোন দেখি”, তাহলে আগেভাগেই বলে রাখি—আগামীকালের সকাল আপনার জন্য অপেক্ষা করছে!
সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।


| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness

OR



This post has been upvoted by @italygame witness curation trail
If you like our work and want to support us, please consider to approve our witness
Come and visit Italy Community