“জীবনের প্রথম সুশি খাওয়ার অভিজ্ঞতায় আনন্দের চেয়ে আফসোসই বেশি!”
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
সত্যি বলতে, নতুন কিছু খাওয়ার প্রতি আমার সবসময় একটু আগ্রহ কাজ করে। বিশেষ করে এমন খাবার, যেটা আমাদের দেশে খুব বেশি প্রচলিত না এবং বিদেশি খাবার হিসেবে পরিচিত। সুশি নিয়ে মানুষের এমন এক ধরনের “ওয়াও” ভাব দেখে মনে হয়েছিল—আজ হয়তো জীবনের অন্যতম সেরা খাবারের অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। মনে মনে ভাবছিলাম, হয়তো এমন স্বাদ পাবো যেটা আগে কখনোই খাইনি।
অনেক মেনু দেখাদেখির পর একটা স্মোকড স্যামন টাইপের সুশি আইটেম অর্ডার করলাম। দাম দেখে প্রথমেই একটু থমকে গিয়েছিলাম—৪৫০ টাকা! তাও ভাবলাম, যেহেতু প্রথমবার ট্রাই করছি, একবার ভালো কিছু খেয়েই দেখি। নিজের মনকে বুঝালাম—“নতুন অভিজ্ঞতা, দাম একটু বেশি হতেই পারে।”
কিন্তু আসল ধাক্কাটা খেলাম যখন অর্ডার আসলো।
প্লেটের দিকে তাকিয়ে আমি একদম অবাক! ৪৫০ টাকায় মাত্র ২টা সুশি! প্রথমে মনে হলো, হয়তো এটা কোনো স্টার্টার বা স্যাম্পল টাইপ কিছু। কিন্তু না, এটাই পুরো সার্ভিং! মাথার ভেতরে তখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছিল—“এই দুই টুকরার জন্য ৪৫০ টাকা?”
যাই হোক, যেহেতু এত টাকা দিয়েছি, আশা ছিল স্বাদ অন্তত মন ভরিয়ে দেবে। অনেক আগ্রহ নিয়ে প্রথম কামড় দিলাম। আর তখনই বুঝলাম—আমার প্রত্যাশা আর বাস্তবতার মধ্যে বিশাল একটা পার্থক্য আছে।
খেয়ে মনে হলো, আহামরি কিছু না!
হয়তো যারা নিয়মিত সুশি খায়, তাদের কাছে এটা খুব স্পেশাল লাগতে পারে। কিন্তু আমার মতো প্রথমবার খাওয়া মানুষের কাছে ব্যাপারটা তেমন ইমপ্রেসিভ লাগলো না। কাঁচা বা স্মোকড মাছের আলাদা একটা ফ্লেভার, সাথে ভাতের মতো টেক্সচার—সব মিলিয়ে খারাপ না, কিন্তু এমনও না যে “ওয়াও! আবার খেতেই হবে!”
বরং মনে হচ্ছিল—এই ৪৫০ টাকা দিয়ে যদি একটা ভালো বিরিয়ানি খেতাম, কিংবা জম্পেশ কোনো বার্গার কম্বো, অন্তত পেট ভরত আর মনও খুশি থাকত! এখানে না পেট ভরেছে, না টাকার ভ্যালু মনে হয়েছে।
আসলে আমরা অনেক সময় সোশ্যাল মিডিয়ার হাইপ দেখে কিছু জিনিস নিয়ে খুব বেশি প্রত্যাশা তৈরি করে ফেলি। বিশেষ করে বিদেশি খাবারগুলো নিয়ে একটা “লাক্সারি” ভাব তৈরি হয়। মনে হয়—এগুলো নিশ্চয়ই অসাধারণ! কিন্তু বাস্তবতা হলো, সব খাবার সবার জন্য না। কোনো খাবার জনপ্রিয় মানেই সেটা আপনার ভালো লাগবেই—এমন কোনো কথা নেই।
আমার মনে হয়েছে, সুশি এমন একটা খাবার যেটা হয়তো প্রথমবারেই সবার ভালো লাগে না। অনেকেই বলে, এটা “acquired taste”—মানে কয়েকবার খেতে খেতে ভালো লাগতে শুরু করে। কিন্তু সমস্যা হলো, বাংলাদেশে একেকবার ট্রাই করতে গেলে যদি এমন দাম লাগে, তাহলে বারবার এক্সপেরিমেন্ট করার সাহসও থাকে না!
আরেকটা বিষয় হলো—আমাদের বাঙালি খাবারের স্বাদের সাথে সুশির স্বাদের অনেক পার্থক্য। আমরা ঝাল-মসলা, গরম গরম, ফ্লেভারফুল খাবারে অভ্যস্ত। সেখানে সুশি অনেকটাই হালকা, মিনিমাল ফ্লেভারের একটা খাবার। তাই হয়তো প্রথমবারেই খুব একটা “গায়ে লাগার” মতো অনুভূতি হয়নি।
তবে একটা জিনিস অবশ্যই বলবো—অভিজ্ঞতা হিসেবে খারাপ না। অন্তত এখন কেউ যদি জিজ্ঞেস করে, “সুশি খেয়েছো?” আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলতে পারবো—“জি ভাই, খাইছি! আর ৪৫০ টাকায় মাত্র ২টা সুশি খেয়ে জীবনের শিক্ষা নিয়েছি!” 😅
এখন হয়তো অনেকে বলবে, “ভুল জায়গা থেকে খেয়েছো”, “আরেক ধরনের সুশি ট্রাই করো”, “ভালো জায়গার সুশি খেলে বুঝবা”—এটাও হতে পারে। কারণ একবার খেয়ে পুরো একটা খাবারকে জাজ করা ঠিক না। কিন্তু প্রথম অভিজ্ঞতা যেহেতু খুব বেশি ভালো হয়নি, তাই আপাতত আবার সুশি খাওয়ার ইচ্ছা খুব একটা জাগছে না।
সবশেষে একটা কথাই বলবো—সব হাইপ বাস্তবে ততটা আনন্দ দেয় না। কিছু জিনিস দূর থেকে যতটা আকর্ষণীয় লাগে, কাছ থেকে ততটা স্পেশাল মনে হয় না। আজকের সুশি এক্সপেরিয়েন্সটা ঠিক তেমনই। জীবনের প্রথম সুশি খাওয়া—ভেবেছিলাম হবে স্মরণীয় এক সুখের গল্প, কিন্তু হয়ে গেল একটু আফসোস, একটু হাসি আর একটু “টাকা লস” টাইপ অভিজ্ঞতা।
তবে হ্যাঁ, জীবনে নতুন কিছু ট্রাই করার মজাটাও আলাদা। কারণ ভালো লাগুক আর না লাগুক, একটা গল্প তো তৈরি হয়! আর আজকের গল্পটা হলো—“৪৫০ টাকায় ২টা সুশি—জীবনের সবচেয়ে ছোট কিন্তু সবচেয়ে দামি অভিজ্ঞতাগুলোর একটা!” 😄
সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।


| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness

OR

