জুমাবার— যান্ত্রিক জীবনের ডায়েরিতে এক চিলতে আত্মিক প্রশান্তি ও ফিরে আসার গল্প
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
এরপর যখন নামাজের জন্য কাতার সোজা করে দাঁড়ানোর সময় আসে, তখন এক অদ্ভুত এবং সুন্দর দৃশ্য তৈরি হয়। সেখানে কেউ ধনী নয়, কেউ গরিব নয়; কেউ মালিক নয়, কেউ শ্রমিক নয়। একজন দিনমজুরের ঠিক পাশেই হয়তো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন সমাজের কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। এই যে ভেদাভেদ ভুলে, সব অহংকার আর সামাজিক পরিচয় ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে এক কাতারে দাঁড়িয়ে যাওয়া— এর চেয়ে বড় সমমর্মিতা বা 'এম্প্যাথি' আর কী হতে পারে? জুমাবার আমাদের শেখায় যে, দিনশেষে আমরা সবাই মানুষ, আমাদের সবার গন্তব্য এক, আর এই বিশাল পৃথিবীর বুকে আমাদের নিজস্ব অহংকারের আসলে কোনো মূল্যই নেই।
নামাজের সিজদায় যখন মাথাটা অবনত হয়, তখন যেন বুকের ভেতর জমে থাকা সব অব্যক্ত কষ্ট, সব অভিযোগ আর না পাওয়ার বেদনাগুলো চোখের জল হয়ে গড়িয়ে পড়তে চায়। ওই কয়েক সেকেন্ডের সিজদায় মানুষ তার সৃষ্টিকর্তার সাথে যে ভাষায় কথা বলে, তার কোনো শব্দরূপ হয় না। সেটা শুধুই অনুভূতির। সেই অনুভূতিতে থাকে ক্ষমা চাওয়ার আকুতি, থাকে নিজের দুর্বলতাগুলো স্বীকার করে নেওয়ার সাহস, আর থাকে সব পরিবর্তনের মাঝেও একটা স্থির আশ্রয়ের সন্ধান।
نماজ শেষে মোনাজাতের পর যখন আমরা একে অপরের দিকে ফিরে সালাম ফেরাই, তখন মুখের হাসিতে যে প্রশান্তিটুকু লেগে থাকে, তা পৃথিবীর কোনো সম্পদ দিয়ে কেনা সম্ভব নয়। পরিচিত, অর্ধ-পরিচিত কিংবা একদম অপরিচিত মানুষটির সাথেও যখন বুকে বুক মিলিয়ে কোলাকুলি করা হয়, তখন মনে হয় যেন পৃথিবীর সব বিদ্বেষ, সব বিভেদ এক নিমিষেই মুছে গেল। মসজিদ থেকে বের হয়ে বাড়ির দিকে হাঁটার সময় পা দুটো আগের চেয়ে অনেক হালকা মনে হয়। মনে হয়, গত ছয় দিনের যত গ্লানি, যত পাপ, যত ক্লান্তি— সব ওই মসজিদের কার্পেটেই রেখে এসেছি।
জুমাবারের দুপুরের এই সময়টাতে সময়ের মূল্য যেন আরও তীব্রভাবে ধরা দেয়। পরিবারের সবার সাথে এক টেবিলে বসে খাওয়া, তারপর একটু শান্তিতে ঘুম— এই সাধারণ বিষয়গুলোর মাঝেই যে জীবনের আসল সুখ লুকিয়ে আছে, তা শুক্রবার ছাড়া অন্য কোনো দিন এত স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না।
জুমাবার আমাদের থামতে শেখায়, ভাবতে শেখায় এবং নতুন করে বাঁচতে শেখায়। এটি কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি আমাদের মানবিক সত্তাকে জাগিয়ে তোলার এক সাপ্তাহিক মহড়া। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবনের পরিবর্তনের স্রোতে গা ভাসিয়ে দিলেও, আমাদের শেকড়টা যেন শক্ত থাকে। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে, সবার প্রতি সমমর্মিতা বুকে ধারণ করে, আমরা যেন আগামীকালের নতুন কোনো সকালের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারি। জুমাবার এভাবেই বারবার ফিরে আসুক আমাদের জীবনে— এক বুক প্রশান্তি, আত্মশুদ্ধি আর বেঁচে থাকার নতুন প্রেরণা হয়ে।
সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।


| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness

OR


