পুরনো দিনের ডায়েরি ( পর্ব ১৮ )
Image Created by OpenAI
আপনাদের সাথে "পুরনো দিনের ডায়েরি" গল্পের ১৮ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। তো এরপরে রাহুল ডায়েরির একটি কথা বৃদ্ধের সামনে তুললে, সে মাথা নাড়লো। ঠিক বলেছ, তোমার বাবা সামনে এগিয়ে যাননি ঠিকই, কিন্তু একটা কাজ করেছিলেন। রাহুল তখন বৃদ্ধের দিকে নীরব দৃষ্টিতে তাকালো। তবে যে কাজটা করেছিলো যাওয়ার আগে অর্থাৎ তোমার বাবা মালতির জন্য একটা ডায়েরি রেখে গিয়েছিলো। রাহুলের এইসব শুনে যেনো শ্বাস আটকে যাওয়ার মতো। এরপর বৃদ্ধ আবারো বললো- সেই ডায়েরি সেইভাবে এখনো আছে, মালতি কখনো খুলে দেখেনি। সবসময় বলত, কিছু কথা না জানাই ভালো। রাহুল যেনো এতসব বিষয় আর ভাবতে পারছিল না। বাবা তাহলে দুটো ডায়েরি লিখেছিল?
একটা নিজের অর্থাৎ আমাদের জন্য এবং আরেকটা মালতির জন্য? এরপর বৃদ্ধ বললো- মালতি পরে আর বিয়ে করেনি, শহর ছেড়ে সেই যে চলে গিয়েছিলো, আর ফেরেনি। বেঁচে আছে কিনা তাও জানিনা। এরই মাঝে স্টেশন এর ঘড়িতে ঘন্টা বেজে উঠলো অর্থাৎ তার মানে ট্রেন আসার ঘোষণা হয়ে গেছে। বৃদ্ধ তখন বেঞ্চ থেকে উঠে পড়লো। এরপর বললো- তুমি এই সত্য জানার পর কি করবে, সেটা তোমার একান্ত বিষয়। কিন্তু তোমার বাবা একজন শুধু স্বামী বা বাবা ছিলেন না, তিনি একজন মানুষ ছিলেন, যিনি নিজের ভালোবাসাকে ছেড়ে দিতে পেরেছিলেন। এই কথা শোনার পরে রাহুল থমকে গেলেন এবং গালে হাত দিয়ে চুপ করে বসে রইলো বেঞ্চ এর উপর। বৃদ্ধ লোকটি হেঁটে চলে গেলেন প্ল্যাটফর্ম এর অন্যদিকে।....
