মুখোশ পরিহিত মানুষের আনাগোনা প্রখর!
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
মুখোশ পরিহিত মানুষের আনাগোনা প্রখর, এই কথাটা আজকাল খুব ভালোভাবে টের পাই। চারপাশে এমন সব মানুষ ঘুরে বেড়ায় যারা ভেতরে একরকম আর বাইরে আরেকরকম। অনেক সময় আমরা ভেবে নেই যে সবাই আমাদের মঙ্গল চায়, আমাদের ভালোবাসে বা অন্তত সৎ থাকে, কিন্তু বাস্তবতা একদম উল্টো। মানুষ মুখে মিষ্টি কথা বলে, হাসিমুখে কাছে আসে, অথচ ভিতরে ভিন্ন খেলা চলে। এই খেলা হলো স্বার্থের, হিংসার আর প্রতারণার।
সবচেয়ে কষ্ট লাগে তখনই যখন যাকে সবচেয়ে আপন মনে করি, যাকে সবকিছু ভাগাভাগি করে বলি, সেই মানুষটাই মুখোশ পরে বসে থাকে। সামনে একরকম ব্যবহার আর পেছনে গিয়ে সম্পূর্ণ উল্টো আচরণ। তখন নিজের বোকামি চোখে আঙুল দিয়ে দেখা যায়। ভাবতে ভালো লাগে না যে আমরা এতটা সহজে ভরসা করি আর সেই ভরসার সুযোগ নিয়ে মানুষ নিজের স্বার্থ হাসিল করে।
আমি বুঝতে শিখেছি যে এখন কারো কথায় বা আচরণে খুব সহজে ভরসা করা উচিত না। কারণ মানুষ এখন যে কত রকম মুখোশ পরে ঘোরে তা বলে বোঝানো যাবে না। কখনো প্রয়োজনের সময় আপন হতে আসে, আবার প্রয়োজন ফুরালেই দূরে সরে যায়। কারো মুখের কথায় মুগ্ধ হওয়ার আগে তার কাজকর্ম দেখতে হবে। কারণ কাজই শেষ কথা বলে।
কিছু মানুষ আছে যারা শুধু প্রশংসা আর মায়ার অভিনয় করতে জানে। তারা সামনের মানুষটিকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। এমনকি তাদেরকে দোষী প্রমাণ করতেও দ্বিধা করে না। আসলে এই মুখোশধারী মানুষেরা আমাদের ভরসার জায়গাটা নষ্ট করে ফেলে। কারো সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে গেলে বারবার মনে হয় যদি সেও এমন হয় তাহলে কাকে আসল বন্ধু ভাববো?
তবে এটাও ঠিক যে সবার ভেতর খারাপ থাকে না। কিছু মানুষ নিঃস্বার্থও হয়। কিন্তু কষ্টের কথা হলো, সেই ভালো মানুষগুলোকে আলাদা করে চেনা এখন অনেক কঠিন। কারণ এই মুখোশের ভিড়ে আসল মুখ গুলো হারিয়ে যায়।এখন আমি মনে করি, মানুষকে সময় দিতে হয়, তার স্বভাবকে বুঝতে হয়। হুট করে কাউকে নিজের খুব কাছে টেনে নেওয়া উচিত নয়। কারণ যখন মুখোশ খুলে যায় তখন যে কষ্ট হয় সেটা অনেক গভীর হয়। আর সেই কষ্ট থেকে মানুষ আর সহজে বের হতে পারে না। তাই এই সময়ে সবচেয়ে বেশি দরকার সাবধানতা আর বোঝার ক্ষমতা। মুখোশ পরা মানুষের আনাগোনার মধ্যে থেকেও নিজের সত্যিকারের মানুষগুলোকে খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

