নকশিকাঁথার ঐতিহ্য
Image Created by OpenAI
নকশিকাঁথা বিষয়টা আসলেই অনেক প্রাচীন। বাংলার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে রয়েছে এই নকশিকাঁথার নাম। পুরনো কাপড়, মায়ের/মাসির আদর, দিদিমার গল্প আর জীবনের এক টুকরো স্মৃতি। এই স্মৃতিগুলো নকশিকাঁথার প্রতিটি সেলাইয়ে ফুটে ওঠে। নকশিকাঁথা শুধুমাত্র একটি ব্যবহার্য সামগ্রী ছাড়াও এটি বাঙালির আবেগ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত অধ্যায়। এখন মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, কাঁথা তো একইভাবে তৈরী করা হয়, তাহলে নকশিকাঁথার মধ্যে পার্থক্য কোথায়! আসলে নকশিকাঁথা পুরোনো শাড়ি বা যেকোনো কাপড়ের কয়েকটি স্তর একসাথে জুড়ে যে সেলাই এর মাধ্যমে ডিজাইন ফুটিয়ে তোলা হয়, সেটাই নকশিকাঁথা।
আর এইজন্য সাধারণ কাঁথা আর নকশিকাঁথার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নকশিকাঁথার একটা বিশেষত্ব হচ্ছে, এতে থাকে নানা ধরণের নকশা, যার ফলে ডিজাইন দেখতে দারুণ লাগে। এই নকশিকাঁথা গ্রামবাংলায় নারীরা নিজেদের অবসর সময়ে তৈরি করতেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিভিন্ন উপলক্ষেও বিশেষভাবে তৈরী করা হতো, যেমন- কারো জন্মদিনে, বিয়েতে। তখনকার গ্রামবাংলার দৃশ্যই ছিল অন্যরকম। তবে আমাদের দুই বাংলাতেই এই নকশিকাঁথার ঐতিহ্য অনেক সমৃদ্ধ ছিল। নকশিকাঁথা হলো একদম পিওর হাতে তৈরী শিল্প। নকশিকাঁথা মূলত গ্রামীণ নারীদের শিল্প। লেখাপড়া না জানা অনেক নারী সুতো আর সেলাইয়ের মাধ্যমেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে থাকত।
