ভালো থাকা আর ভালো থাকার অভিনয়
আমরা সকলেই ভালো থাকতে চাই। আমাদের সকলের আসলে ভালো থাকার অধিকার রয়েছে। মানুষের খুব স্বাভাবিক এবং খুব প্রয়োজনীয় অধিকারগুলোর মধ্যে একটা হলো ভালো থাকা। আমরা যখন মানুষ হিসেবে জন্ম নিয়েছি, সে ক্ষেত্রে আসলে মানুষ হিসেবে ভালো থাকার অধিকারটুকু সৃষ্টিকর্তা আমাদের দিয়েছেন। কিন্তু এই অধিকারটুকু কেড়ে নেয় এই পৃথিবীর মানুষ, এই পৃথিবীর পরিস্থিতি এবং সর্বোপরি এই পৃথিবী।
আসলে আমরা ভালো থাকতে চাইলেও এখন আর কোনোভাবেই ভালো থাকতে পারি না। আমরা ভালো থাকতে চাই, কিন্তু দিনশেষে দেখা যায় যে শুধুমাত্র আমরা ভালো থাকার অভিনয়টাই করে যাই। আসলে আমরা ভালো থাকতে পারি না। আর এই ভালো থাকার অভিনয় করে আমাদের চারপাশকে দেখানোর জন্য যে আমরা ভালো আছি আসলে কিন্তু আমরা ভালো থাকি না।
আসলে ভালো থাকার অভিনয় করতে করতে একটা সময় আমরা ওই অভিনয় জগতটাকে নিজেদের জগৎ বানিয়ে ফেলি। অর্থাৎ, ব্যাপারটি অনেকটা এমন যে আমরা মিথ্যের জগতে বাস করতে করতে সত্যের জগত কেমন হয়, কিংবা সত্যের জগত বলেও যে একটা জগত আছে, সেটা আমরা ভুলে যাই। সেটা আমরা গুলিয়ে ফেলি।
আসলে ভালো থাকা আর ভালো থাকার অভিনয় কিন্তু এক জিনিস নয়। কিন্তু আমরা শুধুমাত্র অন্যকে দেখানোর জন্য, এবং মানুষকে আসলে দেখানোর জন্যই শুধুমাত্র, অথচ করার জন্য ভালো থাকার অভিনয় করে যাই যেখানে আমরা আসলে বিন্দুমাত্র ভালো থাকি না।
আমরা আমাদের নিজেদের সাথে লড়াই করতে থাকি। আমরা ওই ভালো থাকার অভিনয় করার জন্য নিজেদের ভেতরের সাথে লড়াই করতে থাকি। এবং আমরা যতই খারাপ থাকি না কেন, ওই পরিস্থিতিকে আমরা বদলানোর চেষ্টা করি না। কারণ, ওই পরিস্থিতিকে বদলানোর চেষ্টা করার জন্য যে এত সময় দরকার হয়, সেটাই আমরা পাই না। কেন, বলুন তো?
কারণ, আসলে আমরা ওই কাজটুকু না করে, ওই ব্যাপারে সময় না দিয়ে, আমরা ভালো থাকার অভিনয় কীভাবে আরো ভালোভাবে করা যায়, সেটাতে সময় দেই।যেখানে উচিত ছিল ভালো থাকার পেছনে সময় দেওয়া, সেখানে আমরা সময় দেই ভালো থাকার পেছনের অভিনয় করাতে। আর যার কারণে, আসলে আমরা শেষ পর্যন্ত ভালো থাকতেই পারি না।তাই, আমার মনে হয়, মানুষ যা-ই মনে করুক না কেন, শুধুমাত্র মানুষকে দেখানোর জন্য ভালো থাকার অভিনয় করার কোনো প্রয়োজন নেই।

