বা-ল পাকনা
চিন্তা, সৃজনশীলতা, ভাবনা—এসবের প্রকৃত মূল্যায়ন না করলে কলমের মুখে অক্ষর আসে না। তবে এসবের ক্ষেত্রে আজকাল দরকষাকষি হয়। যদি নামের আগে কোনো শক্তপোক্ত পেশার ছোঁয়া থাকে, তাহলে তো কোনো কথাই নেই। যা লিখবেন, তাই প্রকাশনী গিলবে।
আর যদি লেখালেখি চর্চার জন্য সেই শক্তপোক্ত পেশাটাই ছেড়ে দেন, তাহলে তো আপনার সৃজনশীলতা নিয়ে আর দরকষাকষি হবে না; বরং সস্তা দরের বস্তাপচা লেখার তালিকাতেও আপনার নাম যুক্ত হয়ে যেতে পারে।
এই যে আশেপাশে কিছু হালের বা-ল পাকনা কবি, সাহিত্যিক কিংবা লেখকদের দেখেন না, আপনার কি মনে হয় এরা শিল্প-সাহিত্যের চর্চা করে? এরা আসলে নিজের নামের সামনের পেশার টাইটেল ভাঙায়।
কালেভদ্রে একদিন ছুটি পেয়েছে, নতুবা চাকরি নামক দাসত্বের ফাঁকে বসে জিরিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে নিজের অভিজ্ঞতার কথা দু-চার শব্দে উগরে দিয়েছে, আর তাতেই মশাই সামাজিক পরিবেশে সাহিত্যিক বনে গিয়েছে?
এটা সত্য, এখন অবশ্য এদেরই কদর বেশি। যেখানে-সেখানে টুক করে মলমূত্র বিসর্জনের মতো করে এদের সৃজনশীলতা উপচে পড়ে তো, যার কারণে মানুষ না পড়েও পারে না।
আপনার কি মনে হয়, মানুষ এখন ধ্যানে-জ্ঞানে শিল্প-সাহিত্য ও সৃষ্টিশীলতার চর্চা করে? মোটেও না।
যেই শোনে প্রকৃত লেখকের পেটে ভাত নেই, অর্থকষ্টে ভুগছে কিংবা দারিদ্র্যের চাপে পিষ্ট হয়েও নিজের সত্তাকে বিকিয়ে ফেলছে না, বরং নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে—তখন আসলে মানুষ আর লেখক হতে চায় না।
এখন আপনি বলতেই পারেন, তাহলে প্রতিনিয়ত এত লেখার পয়দা হয় কীভাবে? ওই যে সহজ উত্তর— হালের বা-ল পাকনা কবি-সাহিত্যিকদের জন্য।
