শৈশব-শূন্যতার খাতা
খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, বছর দশেক আগেও বন্ধুরা মিলে একত্রে ফুটবল বিশ্বকাপের সময় প্রচুর হৈ-হুল্লোড় করে ফুটবল খেলা দেখেছি। সে কী উত্তেজনা! বিশেষ করে যে যার পছন্দের দল কিংবা তারকা খেলোয়াড়দের নিয়ে ভীষণ মাতামাতি।
এমনকি রাত জেগে বড় পর্দায় খেলা দেখা, প্রিয় দলের নাম নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হওয়া, আতশবাজি কিংবা অন্যান্য বিনোদন তো সঙ্গে ছিলই।
কিন্তু আজ, বছর দশেক পরে দৃশ্যপট যেন সম্পূর্ণ পরিবর্তিত। আগের মতো উত্তেজনা আর খুঁজে পাই না। সংসার কিংবা কর্মব্যস্ততার চাপে পিষ্ট হয়ে সব উত্তেজনা যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। মনে হয়, কোথাও কেউ নেই; ভেতরে ভেতরে শুধুই একাকীত্ব। এলাকার মাঠগুলোতেও পরিচিত মুখগুলো আর দেখা যায় না।
গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠতি বয়সী তরুণদের ফুটবল নিয়ে উত্তেজনা দেখে শৈশব যেন বারবার হাতছানি দিচ্ছিল। তবে বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর, চাইলেই অনেক কিছু ফিরে পাওয়া যায় না। যেমন ফিরে পাচ্ছি না আমার শৈশবকে কিংবা বাল্যবন্ধুদের।
আহারে ফুটবল খেলা, তোকে নিয়ে যে কত শত স্মৃতি আছে, তা হয়তো চাইলেও লিখে শেষ করা সম্ভব নয়। একদিন আমাদেরও উঠতি বয়সী তরুণদের মতো টগবগে উত্তেজনা ছিল, যা আজ শুধুই স্মৃতি।
এখন ফুটবল বিশ্বকাপ আসে আর যায়। যে একটু সময় মেলে, তা যেন ওই মোবাইলের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকতেই ফুরিয়ে যায়। টুকটাক খেলাও দেখা হয়, তবে শৈশব-শূন্যতার খাতা যেন কোনোভাবেই পূর্ণ হয় না।
