শেকড়ে ফেরার রাত।

in আমার বাংলা ব্লগ4 days ago

37222.jpg

সৈয়দ বাড়ির এমন দৃশ্য কি নতুন? গভীরভাবে ভেবে দেখলাম—না, এবার নিয়ে তিনবার স্বচক্ষে দেখলাম এমন রাত, এমন ভিড়, এমন নিঃশব্দ কান্না।

মাঝরাতে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যেই যে যেভাবে পেরেছে, আশপাশ থেকে ছুটে এসেছে। করতোয়া নদীর ওপরে, চারদিক গাছপালায় ঘেরা বড় বাড়িটাই সৈয়দ বাড়ি—যে বাড়ি একসময় মানুষে গমগম করত, আজ সেখানে মানুষের দেখা মেলে মূলত বিয়োগের দিনে।

জীবন, জীবিকা আর কর্মের তাগিদে সবাই একে একে বাড়িটা ছেড়ে দূরে সরে গেছে। সম্পর্কটা এখন অনেকের কাছে শুধুই নামের।

উৎসব-পার্বণে কালেভদ্রে সবার সঙ্গে দেখা হয়, আর কোনো মৃত্যু এসে সব দূরত্ব ভেঙে দিলে, তবেই সবাই আবার ফিরে আসে শেকড়ে।

আজও তাই হয়েছে।

কত মানুষ জড়ো হয়েছে—প্রায় সবাইকেই চিনি। অথচ কথা বলার মতো কোনো শব্দ নেই। দমকা হাওয়া যেন মুহূর্তেই সবকিছু থামিয়ে দিয়েছে। যে মানুষগুলো বছরের পর বছর দূরে ছিল, আজ তারা পাশাপাশি। কিন্তু কারও মুখে কথা নেই,চোখে শুধু জল, আর বুকের ভেতরে চাপা আগুন।

অদ্ভুত এই জীবন!

বেঁচে থাকতে দূরে সরে যাই, আর চলে গেলে ফিরে আসি। এই ফেরা বড় নির্মম ও বেদনাদায়ক।

যত প্রজন্ম বাড়ছে, ততই বিয়োগের খাতা মোটা হচ্ছে। একদিন এই বাড়ির উঠানেও হয়তো আর কারও পায়ের শব্দই থাকবে না। থাকবে শুধু দেয়াল, গাছপালা, করতোয়ার বাতাস—আর অসংখ্য মানুষের ফেলে যাওয়া স্মৃতি।

সবাইকেই যেতে হবে।
শুধু কে আগে যাবে, আর কে পরে—
এই হিসাবটাই কারও জানা নেই।