দূর থেকে শুভেচ্ছা।
আসিফ সৈকত (ছদ্মনাম)।
আমার প্রিয় একজন লেখক। আরও পরিষ্কার করে বললে, কলেজ জীবনের শুরু থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার লেখা পড়ে টুকটাক অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। তবে কোনোভাবেই তখন মুখ ফুটে তা বলা হয়ে ওঠেনি। আজও বলার ইচ্ছা ছিল না, কিন্তু ঘটনাচক্রে বলেই ফেলছি আর কী!
ভাবতাম, এত প্রতিকূলতার মাঝেও একজন মানুষ কীভাবে নিজেকে টিকিয়ে রাখেন! জাতীয়তাবাদী সত্তা যদি শিরায় শিরায় প্রবাহিত হয়, তাহলে হয়তো এমন পাগলামি সম্ভব—তাছাড়া নয়।
ছোট্ট একটা উদাহরণ দিই। মেডিকেল জীবনে ভদ্রলোক কম চড়াই-উতরাই পেরোননি। স্বৈরাচারের বাহিনীর নির্মম নির্যাতনে একসময় তার কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল; প্রায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু তারপরও মাথা নত করেননি।
যখন তার সহপাঠীরা বিসিএস দিয়ে ধাপে ধাপে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছিলেন, প্রমোশন পাচ্ছিলেন, তখন তিনি পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি পরিবেশে, তীব্র অর্থকষ্টের ভেতর দিয়ে কোনো রকমে জীবন কাটিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময়ের সংগ্রামের গভীরতা হয়তো তিনি ছাড়া আর কেউ পুরোপুরি জানতেন না। আমিও টুকটাক জেনেছিলাম, মূলত তার লেখাগুলো পড়েই।
এত নির্যাতন, প্রতিনিয়ত হুমকি-ধামকি, শারীরিক নিপীড়ন কিংবা পুলিশের অমানবিক টর্চার—কিছুই তাকে দমাতে পারেনি।
বরং দাঁতে দাঁত চেপে জীবনের পথে এগিয়ে গেছেন। নিরাশ হননি; একের পর এক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এমবিবিএস (MBBS), বিসিএস (BCS), ডিএ (DA), এমসিপিএস (MCPS), এমআরসিইএম-ইউকে (MRCEM-UK) এবং এফআইপিএম (FIPM)। জীবন তাকে হতাশ করেনি, বরং বহুগুণে ফিরিয়ে দিয়েছে।
আচ্ছা, তার কথা আমি এত বলছি কেন? হিসাবটা একদম সহজ—পছন্দের লেখক, পছন্দের মানুষ।
হুট করেই তিনি একসময় অনলাইন থেকে হারিয়ে গিয়েছিলেন। বহুদিন পর তন্নতন্ন করে খুঁজে বের করলাম। দীর্ঘ সময় মুঠোফোনে কথা হলো। একদম সাবলীল, প্রাণবন্ত আলাপ—যা কেবল একজন লেখক আর পাঠকের মাঝেই সম্ভব।
ইতোমধ্যেই জেনেছি, তিনি বর্তমানে জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (NINS) ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন (CCM) বা আইসিইউ (ICU) বিভাগের কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত আছেন। পাশাপাশি বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর একজন চিকিৎসক নেতা এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রত্যাশা বরাবরই আমার কম। কখনোই কারও কাছে কিছু প্রত্যাশা রাখি না। শুধু চাই, যাদের লেখা পড়ে প্রতিনিয়ত সামান্য হলেও অনুপ্রাণিত হই, তারা ভালো থাকুক তাদের আপন ভুবনে।
আসিফ ভাই, দৌড়াতে হবে কিন্তু এখনও বহুদূর।
দূর থেকে শুভেচ্ছা।