অসুখ
যে লেখাগুলো পড়ছেন, তা কিন্তু অপ্রিয় সত্য। যদি আপনি নিম্ন-মধ্যবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্তের কাতারে পড়েন, তাহলে এই লেখার উপলব্ধি শুধুমাত্র আপনিই করতে পারবেন। যদি পয়সাওয়ালা, ধনী-ক্ষমতাবান শ্রেণির কাতারে পড়েন, তাহলে লেখাগুলো আপনার জন্য নয়।
যাই হোক, কাজের কথায় আসি। জীবন যেখানে যেমন—এটা যেমন সত্য, তার থেকেও বড় অপ্রিয় সত্য হচ্ছে, জীবনটা আসলে কোন অবস্থায় কিভাবে অতিবাহিত হচ্ছে—এটাও কিন্তু ভাবনার বিষয়।
খেটে খাওয়া মানুষজন আসলে খুব গুরুতর অসুখ ছাড়া অন্যান্য অসুখ-বিসুখকে তেমন একটা আমলে নেয় না। বলতে গেলে, সাধারণ অসুখ-বিসুখ তাদের শরীর ও মনের সঙ্গে সর্বদা মানানসই অবস্থায় থাকে। যদি কোনো রকমে মানানসই না হয়, তাহলে ওই ঠেলেঠুলে সর্বোচ্চ সরকারি হাসপাতাল কিংবা আশেপাশের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালই তাদের শেষ আশ্রয়।
তবে কিছুটা সচ্ছল মধ্যবিত্তের ক্ষেত্রে এই চিত্র একটু আলাদা। হয়তো তাদের শুরুটা হয় সরকারি হাসপাতালে পরামর্শ নিয়ে, তারপর সাধ্য অনুযায়ী প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোতেও টুকটাক যাতায়াত করে।
এখন নিম্ন-মধ্যবিত্তই বলুন কিংবা সচ্ছল মধ্যবিত্তই বলুন না কেন, যদি মরণব্যাধি কোনো রোগ ধরে যায়, তাহলে অবস্থা বেগতিক হয়ে যাবে। আচ্ছা, একটা উদাহরণ দেওয়ার চেষ্টা করছি।
ধরুন, আপনার কিডনি বিকল হওয়ার পথে, হার্টে রিং পরানো লাগবে কিংবা আপনি ক্যান্সারে আক্রান্ত। এক্ষেত্রে আপনার কিংবা আপনার পরিবারের করণীয় কী?
হয়তো সঠিক চিকিৎসার খোঁজে তারা অস্থির হয়ে পড়বে এবং প্রতি পদে পদে দৌড়াতে দৌড়াতে দুনিয়ার বাস্তব চিত্র তারা সহজেই দেখে ফেলবে।
যেহেতু চিকিৎসাগুলো খরচসাপেক্ষ এবং পূর্ণাঙ্গভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ, বলতে গেলে বেঁচে থাকা নির্ভর করে টাকার উপর, মানে আপনার পয়সা যতদিন আছে, চিকিৎসাও ততদিন।
কেননা এগুলো ঘূর্ণনশীল চিকিৎসা পদ্ধতি—ওই যে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন, তারপর থেকে শুধু যাতায়াতের ওপরেই থাকতে হবে।
নিম্নবিত্তের অর্থনৈতিক অবস্থা একদম নাজুক হয়ে যায় চিকিৎসা ব্যয় করতে করতে। কখন যে তারা সবার মাঝ থেকে হারিয়ে যায়, সেই খবর কেউ আর রাখে না।
আর যারা সচ্ছল মধ্যবিত্ত থাকে, তাদের এমতাবস্থায় সচ্ছলতার অবস্থার চিত্র কেমন হতে পারে, তা আর নাইবা বললাম। সমাজ, সামাজিকতা, লোকলজ্জা—এসব দিয়ে কি আর অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হয় কিংবা অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে ওঠে? এই প্রশ্নগুলো বড্ড জটিল।
একদম যদি সহজ-সরল সমীকরণে আসি, তাহলে এখন যে কথা বলব, তা হজম করতে আপনার যদি অসুবিধা হয়, তাহলে আমার কিছুই করার নেই।
যদি মরণব্যাধি রোগে আপনি আক্রান্ত হয়ে যান, তাহলে স্বাভাবিক জীবনে কতটুকু ফিরতে পারবেন, তা নিশ্চিত করে বলতে পারব না। তবে আপনার পরিবার, আপনার পিছনে অর্থ ব্যয় কিংবা ডাক্তার-হাসপাতালে ছোটাছুটির প্রতিযোগিতায় নেমে কখন যে নিঃশেষ হয়ে যাবে, তা তারা টেরই পাবে না।
বিঃদ্রঃ মরণব্যাধি রোগ কারও না হোক।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness

OR




