প্রতিচ্ছবির আড়ালে জীবন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিচ্ছবি দেখে কি কারও জীবন সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা পাওয়া যায়?—প্রশ্নটির উত্তর ভীষণ জটিল।
সাধারণভাবে ব্যাখ্যা করতে গেলে হয়তো সহজ একটি উদাহরণ দেওয়া যায়।
ধরুন, সমুদ্রের বিশাল জলরাশির মধ্যে একটি সিকি পয়সা ফেলে দিয়ে আপনাকে সেটি খুঁজে বের করতে বলা হলো। আপনি যতই চেষ্টা করুন, সেই ক্ষুদ্র মুদ্রাটি খুঁজে পেতে আপনার নাভিশ্বাস উঠে যাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাকরণটাও অনেকটা তেমনই।
সেখানে ভাগ করে নেওয়া কারও জীবনের কিছু খণ্ডচিত্র দেখে তার পুরো জীবন সম্পর্কে অনুমান করা, সমুদ্রের অতল জলরাশি থেকে সেই ক্ষুদ্র মুদ্রাটি খুঁজে বের করার মতোই কঠিন।
আচ্ছা, আমরা আসলে কতটুকুই বা নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরি? ঘুরেফিরে সুখকর মুহূর্তের কিছু ছিটেফোঁটা অংশ, কিংবা বিষাদগ্রস্ত সময়ের সামান্য কিছু খণ্ডচিত্র। অথচ এসবের বাইরেও তো একটি মানুষের বিশাল জীবন থাকে—তাই নয় কি?
এটাও সত্য, সময়ের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ঘিরে নানা রকম পসরা সাজিয়ে তোলা হয়েছে। দেশ-বিদেশের খবরাখবর মুহূর্তেই জানা যাচ্ছে, মানুষের সঙ্গে দূরত্ব কমছে, ভাবনা ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বলতে গেলে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার এখন মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে যত কিছুই হোক না কেন, সবকিছুর ভিড়েও মানুষের বাস্তব জীবনের সম্পূর্ণ অ্যালবামটা কিন্তু বাস্তব জগতেই থেকে যায়। তার সব আনন্দ, বেদনা, সংগ্রাম, ব্যর্থতা, দ্বিধা, সম্পর্ক, নীরবতা—সবকিছু মিলিয়ে যে জীবন, তার পরিপূর্ণ প্রতিচ্ছবি কোনোভাবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় তুলে ধরা সম্ভব নয়।
আপনার নানা রকম সমালোচনা, মন্তব্য কিংবা অভিব্যক্তি থাকতেই পারে। আপনার দর্শন, বিশ্বাস কিংবা জীবনকে দেখার ধরনও আলাদা হতে পারে। কিন্তু তাই বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা কয়েকটি খণ্ডচিত্রের ওপর ভিত্তি করে হুট করে কাউকে পরিপূর্ণভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করা মোটেও ঠিক নয়।
কারণ, প্রত্যেক মানুষেরই একটি স্বতন্ত্র জীবন আছে—একটি অদৃশ্য অধ্যায়, যার অনেকটাই লোকচক্ষুর আড়ালে। আর সেই জীবনকে সত্যিকার অর্থে বুঝতে হলে শুধু দূর থেকে দেখা কয়েকটি ছবি বা লেখা যথেষ্ট নয়,প্রয়োজন কাছ থেকে দেখা, বোঝা এবং অনুভব করা।
