দৃশ্যপট
সাঁই সাঁই করে যেন গাড়িগুলো ছুটছে। ইঞ্জিনগুলো কিছুটা আরাম-বিরাম পেয়েছে কিনা বোঝার কোনো উপায় নেই। উৎসবের ছুটি আসলেই কেন জানি মানুষের ভেতরে উত্তেজনা খানিকটা বেড়ে যায়।
মুহূর্তেই যেন ফাঁকা হতে চায় ইট-পাথরের শহর। নাড়ির টান বলে কথা, কে কোন দিকে, কিভাবে, কোন উপায়ে বাড়ি ফিরতে প্রস্তুত, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
কোন পথে ব্যস্ততা নেই দেখান তো! গিজগিজ করছে যেন মানুষগুলো। হোক তা জল, সড়ক কিংবা আকাশপথে। সবাই তো আর আকাশপথে বিমানে চড়ার সাধ্য রাখে না, তাই ঝুলে, দাঁড়িয়ে কিংবা হেলে-দুলে গাট্টি-বোঁচকা বেঁধে জল নতুবা সড়কপথকেই বেছে নেয়।
আচ্ছা, সবার স্বপ্ন কি বাড়ি ফেরে? নাকি কিছু স্বপ্ন যাত্রাপথেই স্তব্ধ হয়ে যায়!
এ আর নতুন কী তাই না? উৎসবের আনন্দ ভোগ করবে আর ত্যাগ স্বীকার করবে না, তা কি হয় নাকি! সবটাই কি খবরের কাগজে আসে, নাকি এ সময়ে হাজারো খবরের ভিড়ে অনেক খবর হারিয়ে যায়?
এই দেখুন, বলতে না বলতেই সন্ধ্যাবেলা সড়কপথে উন্মুক্ত ট্রাকভর্তি মানুষের হট্টগোল। ওরা পয়সা ঠিকই দিয়েছে বাড়িতে যাওয়ার জন্য, কিন্তু ওদের জন্য এসেছে গরুর গোবর মাখানো ট্রাক।
ওই যে শুরুতেই বললাম, ইঞ্জিনের হয়তো কোনো আরাম-বিরাম নেই, তাই হয়তো কোনোরকমে ট্রাকটা সেভাবে পরিষ্কার না করেই, এই সন্ধ্যাবেলা যাত্রী পরিবহনের কাজে লেগে গিয়েছে।
সারাদিন গরু এ হাট থেকে ও হাটে নিয়ে গিয়েছে, আর সন্ধ্যাবেলা প্রস্তুতি নিয়েছে মানুষ পরিবহনের জন্য। এমন হট্টগোল এই শহরে লাগা অস্বাভাবিক কিছু না। অনেকেই শুরুর দিকে নাক সিঁটকে খানিকটা উচ্চবাচ্য করেছিল, তবে ট্রাক ড্রাইভারের পরিষ্কার কথা— গেলে চলেন, না গেলে ভাগেন। ভাড়া তো আর বিমানের দেননি, যে আলগা খাতির-যত্ন করমু।
তাই বাধ্য হয়ে খানিকটা পরে সবাই যেন ওই ছিটানো গোবরের ভেতরেই পড়িমরি করে উঠতে শুরু করল। জীবন যেখানে যেমন, তাই না! তবে শুধু দৃশ্যপটগুলো একটু আলাদা।
