গ্রামীণ ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় নির্মিত এক অনন্য দুর্গাপূজা

আধুনিক আলোকসজ্জা ও প্রযুক্তি নির্ভর থিমের ভিড়ে এই মণ্ডপটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আবহ তৈরি করেছিলো। এখানে ফুটে উঠেছে বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতি, লোকশিল্প এবং ঐতিহ্যের এক চমৎকার সমন্বয়। মণ্ডপের বাইরের অংশ দেখে মনে হয়েছিলো, যেন কোনো প্রাচীন গ্রামীণ দুর্গ বা রাজবাড়ির প্রবেশদ্বারের সামনে দাঁড়িয়ে আছি।সম্পূর্ণ কাঠামোটি মাটির রঙে নির্মিত হওয়ায় একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। মণ্ডপের উপরের গোলাকার গম্বুজ গুলোর ছাউনিতে খড়ের ব্যবহার করা হয়েছে, যা বাংলার গ্রামীণ কুঁড়ে ঘরের কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রতিটি গম্বুজের চারপাশে সাদা রঙের আলপনা ও লোকশিল্পের নকশা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঁকা হয়েছিলো।

বিশেষভাবে চোখে পড়েছে গম্বুজের গায়ে আঁকা স্বস্তিক চিহ্ন। হিন্দু ধর্মে এই প্রতীক শুভ শক্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই মণ্ডপের সামগ্রিক ভাবনার সঙ্গে এটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে মানিয়ে গেছে। মণ্ডপের বিভিন্ন অংশে গ্রামীণ জীবনের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছিল। কোথাও দেখা যাচ্ছে মাথায় বোঝা বহন করা গ্রামের নারী, আবার কোথাও কৃষিকাজের দৃশ্য। এছাড়াও প্রবেশ পথের দুই পাশে গরুর মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে, যা কৃষিনির্ভর বাংলার ঐতিহ্যের প্রতীক। মণ্ডপের ভিতরে প্রবেশ করার পর চোখ আটকে যায় দেবী দুর্গার প্রতিমায়। সম্পূর্ণ প্রতিমাটি স্বর্ণালী আভায় সজ্জিত হওয়ায় এক রাজকীয় সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে। দেবী দুর্গার মুখাবয়বে রয়েছে শান্ত অথচ শক্তিময় অভিব্যক্তি। তাঁর দশভুজা রূপে প্রতিটি অস্ত্র অত্যন্ত সূক্ষ্ম কারুকার্যের মাধ্যমে নির্মাণ করেছিলো।