মনের শান্তি আর মানুষের প্রত্যাশার টানাপোড়েন
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
মনের শান্তি আর মানুষের প্রত্যাশার টানাপোড়েন এই দুইটা জিনিস একসাথে রাখাটা সত্যিই অনেক কঠিন। কারণ একদিকে নিজের মনের শান্তি রক্ষা করতে চাই, আরেকদিকে মানুষের অজস্র প্রত্যাশা পূরণ করতে চাই। এই দুইটার মাঝে ভারসাম্য রাখা অনেক সময় অসম্ভব হয়ে যায়। আমরা এমন এক সমাজে বাস করি যেখানে প্রত্যেকটা মানুষ প্রত্যেকের কাছ থেকে কিছু না কিছু আশা করেই বসে থাকে। ছোট বিষয় থেকে বড় বিষয় পর্যন্ত সবখানে প্রত্যাশার চাপ। এই চাপের ভেতর দিয়ে যেতে যেতে কখনো কখনো নিজের মনের শান্তিটাই আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
আসলে প্রত্যাশা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। কাছের মানুষগুলো সবসময় চায় যে আমরা তাদের জন্য সাধ্যমত কিছু করি। তাদের হাসিমুখ দেখতে চাই আমরা নিজেরাও। কিন্তু এই করতে করতে যদি নিজের মনের শান্তি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সেই হাসিমুখের কোনো মূল্য থাকে না। অনেকেই ভাবে অন্যকে খুশি রাখতে পারলেই নিজের শান্তি পাওয়া যাবে। কিন্তু আসল সত্যিটা হচ্ছে মানুষের প্রত্যাশার কোনো শেষ নেই। আজ একরকম আশা, কাল আরেকরকম। এই প্রত্যাশা পূরণ করতে করতে নিজের ভেতরের শান্তি কোথায় চলে যায়, সেটাই টের পাই না।
আমি অনেকবার চেষ্টা করেছি মানুষের প্রত্যাশা আর নিজের শান্তির মধ্যে একটা মেলবন্ধন করার। কিন্তু যতবার চেষ্টার করেছি ততবারই দেখেছি কোনোটাই ঠিকমতো হয় না। যদি নিজের মনের কথা শুনি, তাহলে মানুষকে নিরাশ করতে হয়। আবার যদি সবার প্রত্যাশা পূরণ করি, তখন নিজের উপরেই বিরক্তি চলে আসে। মনে হয় নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ আর নিজের হাতে নেই। তাই অনেক ভেবেচিন্তে বুঝেছি যে মাঝে মাঝে নিজের শান্তিকে প্রাধান্য দেওয়া দরকার।
সবাইকে খুশি রাখা কখনো সম্ভব নয়। তাই জীবনটাকে একটু সহজভাবে নেওয়া শিখতে হবে। মানুষের প্রত্যাশা পূরণের দায় সবসময় নিজের ঘাড়ে নিয়ে বসে থাকলে একসময় হাঁপিয়ে উঠতে হয়। তাই আমি এখন শিখছি কখন না বলতে হবে আর কখন হ্যাঁ বলতে হবে। মনের শান্তি রাখতে গেলে মাঝে মাঝে মানুষের মনেও কষ্ট দিতে হয়। কিন্তু তবুও এই কষ্টটাই অনেক সময় প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায় নিজের ভালোর জন্য। কারণ শেষমেষ নিজের শান্তি থাকলে তবেই জীবনের সবকিছুর মানে থাকে।

