স্বপ্নের ঠিকানা ( পর্ব ৬ )

in আমার বাংলা ব্লগ15 hours ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000076111.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে 'স্বপ্নের ঠিকানা' গল্পের ষষ্ঠ পর্ব শেয়ার করে নেবো। তো এরপরে সে নিজের ব্যাগটা গুছিয়ে নেয় এবং আজ সে আবার যাবে সেই দেয়ালের কাছে, অর্থাৎ যেখানে তার স্বপ্ন রং পেতে শুরু করেছে। হাঁটতে হাঁটতে তার মনে পড়ে গতকালের কথা। প্রথম আয়, মানুষের প্রশংসা, তার মুখে অজান্তেই একটা হাসি ফুটে ওঠে। সেই পুরোনো দেয়ালের সামনে পৌঁছে সে দেখে, আজও অনেকেই কাজ করছে। কেউ বড়ো বড়ো ক্যানভাসে আঁকছে, কেউ দেয়ালে গ্রাফিক ডিজাইন করছে। অর্ণব তার নিজের জায়গাটায় গিয়ে বসে পড়ে এবং আজ সে ঠিক করেছে আরও ভালো কিছু আঁকবে।

আজ সে একটা অন্যরকম ছবি আঁকা শুরু করে। অর্থাৎ একজন ছেলের ছবি- যেখানে একটা ছেলে অন্ধকার রাস্তা দিয়ে হাঁটছে, সামনে দূরে একটা আলো। ছেলেটার চোখে ক্লান্তি আছে, কিন্তু সেই আলোটার দিকে তাকিয়ে তার মুখে একটুখানি আশা। এই ছবিটা যেন তার নিজের প্রতিচ্ছবি।অর্ণব আঁকায় এতটাই ডুবে ছিল যে সে খেয়ালই করেনি যে, কেউ একজন অনেকক্ষণ ধরে তার কাজটা দেখছে। এরপর সে বললো- তুমি কি এই ছবিটা নিজে ভেবেছো? হঠাৎ এইরকম একটা গম্ভীর কণ্ঠস্বর শুনে অর্ণব চমকে ওঠে। এরপর সে তাকিয়ে দেখে- একজন মধ্যবয়সী ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে আছে। চোখে চশমা, পরনে সাধারণ পোশাক, কিন্তু তার চোখে একটা গভীরতা রয়েছে।

এরপর অর্ণব একটু দ্বিধা নিয়ে বলল- জি, এটা আমার নিজের ভাবনা। ভদ্রলোক কিছুক্ষণ চুপ করে ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকল। তারপর ধীরে বলল- তোমার আঁকার মধ্যে একটা গল্প আছে, শুধু ছবি না। অর্ণব অবাক হয়ে যায়, কারণ এই কথাটা সে আগে কখনো শোনেনি। ভদ্রলোক আবার বলল- তুমি কি কোথাও ট্রেনিং নিয়েছো? অর্ণব মাথা নাড়িয়ে বলল- না, আমি শুধু নিজের মতো করে শিখেছি। লোকটা হালকা হেসে বলল- ভালো, কারণ আসল আর্ট শেখানো যায় না, সেটা অনুভব করতে হয়। এই কথাগুলো অর্ণবের মনে গভীরভাবে ছাপ ফেলে। কিছুক্ষণ পর ভদ্রলোক বলল- আমি একটা ছোট আর্ট স্টুডিও চালাই, খুব বড়ো কিছু না। কিন্তু সেখানে নতুনদের কাজ করার সুযোগ দিই। অর্ণবের বুক ধড়ফড় করতে থাকে, সে যেন ঠিক বিশ্বাস করতে পারছে না।

লোকটা আবার বলল- তুমি চাইলে সেখানে এসে কাজ করতে পারো। অন্তত একটা ছাদ তো পাবে, আর নিজের কাজটাও আরও ভালোভাবে করতে পারবে। অর্ণব কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে এবং তার মাথায় অনেক প্রশ্ন- আমি কি বিশ্বাস করব? এটা কি সত্যি একটা সুযোগ? কিন্তু তার ভেতরের একটা কণ্ঠ বলে- এটাই হয়তো সেই দরজা, যেটা তুমি খুঁজছিলে। শেষে অর্ণব ধীরে বললো- আমি মানে.. আমি যেতে চাই। ভদ্রলোক তার হাতে একটা কার্ড দিয়ে বলল- কাল সকালেই চলে এসো, ঠিকানাটা এখানে আছে। অর্ণব কার্ডটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। কারণ এই ছোট্ট কাগজটাই যেন তার জীবনের সবচেয়ে বড়ো সুযোগ।.....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png