মধ্যরাতের অতিথি ( শেষ পর্ব)

in আমার বাংলা ব্লগ4 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000090513.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "মধ্যরাতের অতিথি" এর শেষ পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর ঘড়ির কাঁটা এগোচ্ছে- ১২:১০, ১২:১১, ১২:১২। অর্ণব বই পড়ছিল- ১২:১৫, ১২:১৬। সে ঘড়ির দিকে তাকাল। মনে হলো- আজও কি কিছু হবে? ১২:১৭, কিছু হলো না। কোনো কড়া নাড়া নেই, কোনো পায়ের শব্দ নেই, কোনো লণ্ঠনের আলো নেই। অর্ণব মৃদু হাসল, তারপর বই বন্ধ করল। ঠিক তখনই ঠক। এরপর থেমে গেল।আরেকবার ঠক। তারপর ঠক। অর্ণব ধীরে ধীরে দরজার দিকে তাকাল। তার বুকের ভেতর পুরোনো সেই আতঙ্ক ফিরে এল, কিন্তু এবার সে ভয় পেল না। সে দরজা খুলল, দরজার বাইরে কেউ নেই। শুধু মেঝেতে একটা ছোট্ট পুরোনো খেলনা- একটা কাঠের গাড়ি।

অর্ণব সেটা তুলে নিল, তার নিচে একটা ছোট্ট কাগজ। কাঁপা হাতে কাগজটা খুলল। মাত্র একটা লাইন- “দাদা, আমি ভালো আছি।” অর্ণবের চোখে জল চলে এল, সে আকাশের দিকে তাকাল। তারপর মৃদু হেসে বলল- আমিও। দরজা বন্ধ করার আগে সে একবার পেছনে তাকাল। দূরের করিডোরে একটা ক্ষীণ আলো, লণ্ঠনের মতো। তারপর আলোটা নিভে গেল। কয়েকদিন পর বাড়ির পুরোনো কাগজপত্র গোছাতে গিয়ে অর্ণব একটা খাম পেল। খামের ওপর লেখা- অর্ণবের জন্য, যদি সে কখনও জানতে পারে। ভেতরে তার বাবার শেষ চিঠি।চিঠিতে লেখা ছিল- অর্ণব, যদি তুমি এই চিঠি পড়ো, তাহলে বুঝব তুমি বেঁচে গেছ। আমি জানি, আমার কাজের জন্য তুমি আমাকে হয়তো কখনও ক্ষমা করবে না।

আমি তোমাকে মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরিয়ে এনেছিলাম। কিন্তু সেই সঙ্গে তোমার জীবনে এমন কিছু রেখে গিয়েছিলাম, যা তোমার থাকার কথা ছিল না। অয়ন আমার কাছে শুধু একজন শিশু ছিল না। সে ছিল আমার অপরাধবোধ। আর মধ্যরাতের অতিথি ছিল সেই অপরাধবোধের ছায়া। চিঠির শেষ অংশে লেখা- মানুষ কখনও কখনও মৃত মানুষকে ফিরিয়ে আনতে চায়। কিন্তু সে ভুলে যায়- মৃত্যুরও একটা নিয়ম আছে। যাকে ফিরিয়ে আনা হয়, সে সবসময় আগের মানুষ হয়ে ফিরে আসে না। তুই বেঁচে থাকিস, আমার জন্য নয়। অয়নের জন্য নয়, নিজের জন্য। চিঠির একেবারে শেষে- আর যদি কোনোদিন রাত ১২টা ১৭ মিনিটে দরজায় তিনবার কড়া নাড়া শোনিস...অর্ণব থেমে গেল।তারপর শেষ লাইনটা পড়ল- দরজা খুলে দিস।

কারণ সব অতিথি ভয়ের হয় না। অর্ণব চিঠিটা ভাঁজ করে রাখল, বাইরে তখন ভোর হয়ে গেছে।সূর্যের আলো ধীরে ধীরে বাড়ির পুরোনো দেয়ালে পড়ছে। শান্তিনিকেতন ভিলা আবার স্বাভাবিক, কিন্তু বাড়ির উত্তর দিকের সেই ঘরের দরজায় আজও একটা পুরোনো লণ্ঠন ঝুলে আছে। আর গ্রামের মানুষ বলে- মাঝে মাঝে গভীর রাতে, ঠিক ১২টা ১৭ মিনিটে, সেই বাড়ির সামনে দিয়ে গেলে তিনবার কড়া নাড়ার শব্দ শোনা যায়- ঠক, ঠক, ঠক। কেউ কেউ বলে, সেটা অয়ন। কেউ বলে, সেটা মধ্যরাতের অতিথি। আর কেউ কেউ বলে- দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা কখনও অয়ন নয়, কখনও অর্ণব নয়। সে শুধু অপেক্ষা করে, কেউ একজন দরজা খুলবে বলে। কারণ- কিছু রহস্যের শেষ হয় না, তারা শুধু অপেক্ষা করতে শেখে।


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png