নীল চিঠির প্রতীক্ষা ( পর্ব ৩ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "নীল চিঠির প্রতীক্ষা" গল্পের তৃতীয় পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর অয়ন কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে টেবিলের ড্রয়ার খুলে সেই নীল খামটা বের করল। প্রতিদিনের মতো আজও এ যেন তার জীবনের এক অদ্ভুত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিঠিটা হাতে নিলেই তার মনে হতো সময়টা কয়েক বছর পেছনে ফিরে গেছে। মনে হতো, এখনই হয়তো লাইব্রেরির দরজা খুলে নীলা ভেতরে ঢুকবে। মুখে সেই চেনা হাসি, হাতে কয়েকটা বই।কিন্তু বাস্তবটা ভীষণ কঠিন আর নীরব। নীলা নেই, শুধু তার স্মৃতি আছে আর আছে অপেক্ষা। অয়ন অনেকবার নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে এভাবে অপেক্ষা করার কোনো মানে নেই।
হয়তো নীলা আর কোনোদিন ফিরবে না। হয়তো সে এখন অন্য কোথাও, অন্য জীবনে ব্যস্ত। তবুও তার মন মানতে চায় না। কারণ ভালোবাসা অনেক সময় যুক্তির চেয়ে বেশি জেদি হয়। সকালের চা খেতে খেতে অয়ন পুরোনো দিনের কথা ভাবছিল।তখনই দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলো। দরজা খুলতেই সে দেখল পাশের বাড়ির বৃদ্ধ মানুষটা দাঁড়িয়ে আছে। গ্রামের সবাই তাকে “মধু কাকা” বলে ডাকে। মধু কাকা হেসে বলল- কী রে অয়ন, আজও এত সকালে জেগে পড়েছিস? অয়ন মৃদু হেসে বলল- ঘুমটা তাড়াতাড়ি ভেঙে যায় কাকা।বৃদ্ধ লোকটা কিছুক্ষণ চুপ করে অয়নের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর ধীরে গলায় বলল- মানুষ যখন বেশি ভাবতে শুরু করে, তখন ঘুম তার কাছ থেকে দূরে সরে যায়।
এরপর অয়ন কোনো উত্তর দিল না। মধু কাকা হয়তো অনেক কিছুই বুঝতে পারত। গ্রামের মানুষ হলেও তার চোখে জীবনের অনেক অভিজ্ঞতা জমে ছিল। এরপর সে হঠাৎ বলল-তুই এখনও মেয়েটার অপেক্ষা করিস, তাই না? অয়ন একটু চমকে উঠল আর বললো- কার কথা বলছ? যার কথা তুই কাউকে বলিস না। অয়ন চুপ করে গেল। মধু কাকা তখন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল- সব অপেক্ষার শেষ ভালো হয় না রে। কিছু অপেক্ষা শুধু মানুষকে ভিতর থেকে ফাঁকা করে দেয়। অয়ন ধীরে বলল- তবুও কিছু মানুষ অপেক্ষা করতে ভালোবাসে। বৃদ্ধ মানুষটা আর কিছু বলল না। শুধু চলে যাওয়ার আগে বলল- জীবনে যদি কখনও নতুন দরজা খুলে যায়, তাহলে পুরোনো জানালার সামনে দাঁড়িয়ে থাকিস না। কথাগুলো অয়নের মনে অদ্ভুত ভাবে গেঁথে গেল। সেদিন লাইব্রেরিতে খুব বেশি মানুষ আসেনি, দুপুরের পর পুরো জায়গাটা একদম নির্জন হয়ে যায় বলতে গেলে।
জানালার পাশে বসে অয়ন একটা বইয়ের পাতা উল্টাচ্ছিল, কিন্তু তার মন বইয়ের মধ্যে ছিল না। হঠাৎ তার চোখ পড়ল পুরোনো রেজিস্টারের দিকে। সেখানে লাইব্রেরির সদস্যদের নাম লেখা, অয়ন তখন ধীরে ধীরে পাতাগুলো উল্টাতে লাগল।একটা জায়গায় এসে তার হাত থেমে গেল- “নীলা সেন।” নামের পাশেই নীল কালিতে ছোট্ট একটা সই। অয়ন কিছুক্ষণ স্থির হয়ে তাকিয়ে রইল সেই সই এর দিকে। একটা নামও কখনও কখনও মানুষের বুকের ভেতর ঝড় তুলতে পারে। তার মনে পড়তে লাগল নীলার ছোট ছোট অভ্যাস গুলো। বই পড়ার সময় চুল কানের পাশে সরিয়ে নেওয়া, কবিতার লাইন পড়ে হঠাৎ চুপ হয়ে যাওয়া, হাসার সময় চোখের কোণে ছোট ভাঁজ পড়ে যাওয়া। এসব স্মৃতি যেন সময়ের সঙ্গে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। বিকেলের দিকে আচমকা বৃষ্টি নামল।অয়ন তখন জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছিল।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





