নীল চিঠির প্রতীক্ষা ( পর্ব ৯ )

in আমার বাংলা ব্লগ6 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000080608.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে "নীল চিঠির প্রতীক্ষা" গল্পের নবম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর-কলেজ রোডটা খুব বড়ো নয়। রাস্তার দুই পাশে পুরোনো বাড়ি, কয়েকটা বইয়ের দোকান আর ছোট ক্যাফে। অয়ন তখন চারপাশে তাকাচ্ছিল, হয়তো এই রাস্তাতেই কোথাও নীলা আছে। হয়তো সে প্রতিদিন এই পথ দিয়ে হাঁটে। এই ভাবনাটাই তার বুক কাঁপিয়ে দিচ্ছিল। হঠাৎ রাস্তার পাশে একটা ছোট বইয়ের দোকান তার চোখে পড়ল। দোকানের নাম ছিল- নীলিমা বুক কর্নার। অদ্ভুতভাবে নামটা দেখে অয়নের মনে টান লাগল।সে ভেতরে ঢুকল এবং দোকানের ভেতরে সেই পুরোনো বইয়ের গন্ধ, দেয়ালে কাঠের তাক ভর্তি বই। কাউন্টারের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল একজন মাঝ বয়সী মহিলা।

অয়ন কিছুক্ষণ ইতস্তত করে বলল-আপনি কি এখানে নীলা সেন নামে কাউকে চেনেন? মহিলার মুখের অভিব্যক্তি মুহূর্তে বদলে গেল। এরপর সে চুপ করে অয়নের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে বলল- আপনি কে? অয়নের বুক ধক করে উঠল এবং সে কাঁপা গলায় বলল- আমি… অয়ন।মহিলাটা কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে রইল, তারপর খুব আস্তে বলল- তাহলে তুমি সেই অয়ন…! অয়ন যেন নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেল। এরপর বললো- নীলা কোথায়? মহিলা সরাসরি উত্তর দিল না, সে কাউন্টারের পাশে রাখা একটা চেয়ার দেখিয়ে বলল- বসুন। অয়নের অস্থির লাগতে লাগলো তখন। সে বসেও যেনো একপ্রকার শান্ত থাকতে পারছিল না। মহিলা ধীরে ধীরে বলল- নীলা তোমার কথা অনেক বলত। অয়নের বুক কেঁপে উঠল এবং জিজ্ঞাসা করলো- তাহলে সে এখানে আছে?

মহিলা কিছুক্ষণ চুপ রইল, তারপর নিচু গলায় বলল- আছে… কিন্তু সবকিছু এত সহজ নয়।অয়নের শরীর যেনো ঠান্ডা হয়ে গেল এবং বলে উঠলো- মানে? মহিলা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। নীলা গত তিন বছর ধরে খুব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। অয়ন বিষয়টা অনুভব করল এবং তার বুকের ভেতর একটা অদ্ভুত ভয় জমছে- কী হয়েছে তার? মহিলার চোখ নিচু হয়ে গেল এবং সে ধীরে বলল- নীলা খুব অসুস্থ, অয়ন। মুহূর্তের মধ্যে অয়নের চারপাশ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল। রাস্তার শব্দ, মানুষের কথা, সবকিছু হঠাৎ দূরে সরে যেতে লাগল। তার শুধু মনে হচ্ছিল- কেউ যেন ভেতর থেকে তার পৃথিবীটা ভেঙে দিচ্ছে। এরপর তার মনের ভেতরে কিছু শব্দও প্রকট হতে লাগলো- সব ভালোবাসার পরিণতি একসঙ্গে থাকা নয়। কিছু ভালোবাসা মানুষকে সারাজীবন অপেক্ষা করতে শেখায়, আর কিছু ভালোবাসা মানুষকে ভেতর থেকে বদলে দেয়।

নীলা খুব অসুস্থ, অয়ন- মহিলার এই কথাটা শোনার পর অয়ন যেন কিছু সময়ের জন্য নিজের ভেতরের সব শব্দ হারিয়ে ফেলেছিল। তার সামনে রাখা কাঠের টেবিলটা ঝাপসা লাগছিল, বুকের ভেতর একটা চাপা ব্যথা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছিল। সে অনেক কষ্টে বলল- কী হয়েছে তার?মহিলা ধীরে ধীরে চেয়ারে বসল এবং তার চোখে মায়া আর ক্লান্তি মিশে ছিল। দুই বছর আগে নীলার একটা জটিল অসুখ ধরা পড়ে। প্রথমে খুব সাধারণ সমস্যা মনে হয়েছিল। কিন্তু পরে জানা যায়, অসুখটা ধীরে ধীরে শরীরকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে। অয়ন স্থির হয়ে কথাগুলো শুনছিল। তার হাত দুটো ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল-তাহলে… সে এখন কোথায়? মহিলা জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল- এই শহরের এক ছোট্ট ভাড়া বাড়িতে থাকে, খুব বেশি মানুষের সঙ্গে মেশে না।বই পড়ে, চিঠি লেখে আর মাঝে মাঝে তোমার কথা বলে।....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png