পুরনো জমিদার বাড়ির বন্ধ ঘর ( পর্ব ২ )
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "পুরনো জমিদার বাড়ির বন্ধ ঘর" গল্পের দ্বিতীয় পর্ব শেয়ার করে নেবো। রায়চৌধুরী পরিবারের শেষ উত্তরাধিকারী এখন সে। বাবা মারা যাওয়ার আগে একটা কথাই বারবার বলেছিলেন- বাড়িটা বিক্রি করে দিস না, অর্ক। অর্ক তখন ভেবেছিল, বাবার পুরনো বাড়ির প্রতি আবেগ থেকেই কথাটা বলেছেন। কিন্তু মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগে বাবা তাকে আরেকটা কথা বলেছিলেন। সেটাই অর্কের মনে সবচেয়ে বেশি ঘুরছিল। উত্তরের ঘরটার দরজা কখনো খুলবি না।অর্ক তখন হেসে বলেছিল- কোন ঘর? বাবা কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে বলেছিলেন- তুই জানিস। আমি তো ছোটবেলা থেকেই শহরে। বাড়িটার অনেক কিছুই জানি না। বাবা আর কিছু বলেননি, শুধু চোখ বন্ধ করে বলেছিলেন- জানিস না বলেই ভালো।
সেদিন কথাটার অর্থ অর্ক বুঝতে পারেনি। আজ বুঝতে শুরু করেছে, বাড়িটা দূর থেকেই দেখা যাচ্ছিল। বিশাল লোহার গেটের দুপাশে আগাছা জমে গেছে। গেটের ওপরে এখনও মরচে ধরা অক্ষরে লেখা- “রায়চৌধুরী ভবন”। একসময় এই বাড়িতে নাকি পঞ্চাশেরও বেশি মানুষ থাকত। জমিদারি উঠে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে পরিবার ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কলকাতায়, কেউ দিল্লিতে, কেউ বিদেশে। শেষ পর্যন্ত বাড়িতে ছিলেন অর্কের দাদু, তারপর তার বাবা। আর আজ- বাড়িটা আবার অর্কের। গেট খুলতেই একটা কর্কশ শব্দ হলো- ক্যাঁচচচচ...অর্ক থেমে গেল। শব্দটা এত দীর্ঘ আর কর্কশ ছিল যে মনে হলো বাড়িটা যেন বহুদিন পর তাকে দেখে অসন্তুষ্ট হয়েছে। সে ব্যাগটা কাঁধে ঠিক করে নিয়ে ভেতরে ঢুকল।...
