আলোর ঝলকানিতে দেবী দুর্গা
দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির আবেগ, আনন্দ আর শিল্পের এক মহামিলন। প্রতি বছর কয়েকটা দিন যেন গোটা শহরটাই বদলে যায়, অর্থাৎ আলো, শব্দ, ভিড় আর ভক্তির এক অপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি হয়। এখানে প্রতিমা ও মণ্ডপ—দুটোই চোখে পড়ার মতো আলাদা মাত্রা যোগ করেছিলো। এই পুজোর মণ্ডপে ঢুকেই প্রথম যে বিষয়টা নজর কেড়েছিল, তা হলো ছাদের বিশাল ঝাড়বাতি আর আলোর নকশা। একাধিক স্তরে সাজানো ঝাড়বাতিগুলো যেনো পুরো মণ্ডপকে রাজকীয় আবহ দিয়েছিলো। উপরের অংশের কারুকাজ আর দেয়ালের নকশা দেখে মনে হচ্ছিল যেন কোনো রাজপ্রাসাদের ভিতরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আলোর ব্যবহার এতটাই পরিমিত ও শৈল্পিক যে, প্রতিমার সৌন্দর্য আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছিল।
মণ্ডপের মাঝখানে দেবী দুর্গা দশভুজা রূপে মহিষাসুর বধের মুহূর্তের দৃশ্যটা অসাধারণ। প্রতিমার মুখের অভিব্যক্তি একদিকে যেমন শক্তি আর দৃঢ়তার প্রতীক, অন্যদিকে তেমনি মমতাময়ী মাতৃরূপও স্পষ্ট ছিল। দেবীর সঙ্গে লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিক—সবাই অত্যন্ত সুন্দরভাবে সজ্জিত ছিল। প্রতিটি প্রতিমার অলংকার, রঙের ব্যবহার আর পোশাকের সূক্ষ্ম কাজ চোখে পড়ার মতো ছিল। বিশেষ করে সিংহ ও মহিষাসুরের ভাস্কর্যগুলো বাস্তবতার ছোঁয়া এনে দিয়েছিলো। মূলত সবকিছুই শিল্পীর হাতের ছোঁয়া। শিল্পী যদি তার ভালোবাসা দিয়ে কোনোকিছু ফুটিয়ে তোলে, তাহলে সেটার সৌন্দর্য চারিদিকে ঝলমল করতে বাধ্য।



