মধ্যরাতের অতিথি ( পর্ব ৫ )

in আমার বাংলা ব্লগ21 hours ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000090513.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "মধ্যরাতের অতিথি" এর পঞ্চম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর ওপাশ থেকে আবার হাসি- বিশ্বাস করতে হবে না। এরপর কিছুক্ষণ নীরবতা। তারপর- শুধু দরজা খুলবে না। অর্ণব এবার থমকে গেল। কী? দরজা খুলবে না। কিন্তু বাইরে কে? কণ্ঠটা এবার ফিসফিস করে বলল- আমি নই। ঠিক তখনই ধাম!দরজাটা বাইরে থেকে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা খেল।অর্ণব চমকে পিছিয়ে গেল এবং তখন দরজার কাঠ কেঁপে উঠল। আবার- ধাম! এবার আরও জোরে। দরজার ওপরের পুরোনো ধুলো ঝরে পড়ল। অর্ণবের বুকের ভেতর হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়ে গেল। ওপাশের কণ্ঠটা বলল- ও এসেছে। অর্ণব কোনো উত্তর দিল না। ধাম! তৃতীয়বার দরজায় আঘাত পড়ল।

দরজার হাতলটা নড়ে উঠল। কেউ বাইরে থেকে খুলতে চাইছে। অর্ণব চারপাশে তাকাল। ঘরটায় পালানোর কোনো পথ নেই।একটা জানালা আছে, কিন্তু জানালার বাইরে দোতলার প্রায় পনেরো ফুট নিচে পাথরের উঠোন।লাফ দিলে বাঁচার সম্ভাবনা খুব কম। দরজার সামনে একটা ভারী কাঠের আলমারি ছিল। অর্ণব সেটাকে টেনে এনে দরজার সামনে ঠেকিয়ে দিল।তারপর আবার মোবাইলের দিকে তাকাল। কল এখনও চলছে। তুমি যদি সত্যিই আমি হও- অর্ণব ফিসফিস করে বলল। তাহলে বলো- আমি এখন কোথায়? ওপাশে কিছুক্ষণ নীরবতা। তারপর উত্তর এল- উত্তর দিকের ঘরে। অর্ণবের শরীর শিউরে উঠল। আর এই ঘরের নাম? তুমি জানো না। তাহলে তুমি কীভাবে জানো? কারণ আমি এখানে ছিলাম।

কবে? ওপাশ থেকে দীর্ঘ নীরবতা।তারপর- চল্লিশ বছর আগে। অর্ণবের চোখ বড় হয়ে গেল আর বললো- তুমি... কে? কণ্ঠটা এবার খুব ধীরে বলল- আমার নাম ছিল অমল মুখার্জি। অর্ণবের হাত থেকে ডায়েরিটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।অমল মুখার্জি- নামটা সে শুনেছে। অনেক বছর আগে তার বাবার কাছ থেকে। কিন্তু সেই মানুষটির সঙ্গে এই বাড়ির সম্পর্ক কী? অর্ণব হঠাৎ মনে করার চেষ্টা করল। তার বাবা মারা যাওয়ার কয়েক বছর আগে একবার এই বাড়ির কথা বলেছিলেন।বলেছিলেন- ওই বাড়িতে কখনও রাত কাটাবি না। তখন অর্ণব বিষয়টা নিয়ে হাসাহাসি করেছিল। তার বাবা আর কিছু বলেননি। শুধু বলেছিলেন- কিছু বাড়ি খালি থাকে না। তখন সে বুঝতে পারেনি। আজ বুঝতে পারছে- তার বাবা হয়তো সব জানতেন। দরজার বাইরে আবার শব্দ হলো।

কিন্তু এবার ধাক্কা নয়, কেউ যেন দরজার গায়ে নখ দিয়ে আঁচড় কাটছে- খররররর...খররররর...। অর্ণবের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। তারপর একটা মৃদু হাসির শব্দ। অর্ণব- কণ্ঠটা এবার অন্যরকম।একটু মেয়েলি। বয়স্ক একজন মহিলার কণ্ঠ- দরজা খোলো বাবা...। অর্ণবের চোখে আতঙ্ক।কারণ এই কণ্ঠটাও সে চেনে। এটা তার মায়ের কণ্ঠ। তার মা মারা গেছেন আট বছর আগে। দরজা খোলো, আমি এসেছি। অর্ণব দু’হাতে কান চেপে ধরল। না...দরজার ওপাশ থেকে আবার সেই কণ্ঠ- অর্ণব... মা এসেছি। অর্ণব চোখ বন্ধ করে বলল- তুমি আমার মা নও। সঙ্গে সঙ্গে সব শব্দ থেমে গেল এক মুহূর্তে। যেন কেউ সুইচ বন্ধ করে দিয়েছে। ঘরটা আবার নিস্তব্ধ। অর্ণব ধীরে ধীরে কান থেকে হাত সরাল। তারপর- মোবাইলের ওপাশ থেকে অমলের কণ্ঠ ভেসে এল।.....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png