শেষ ফোনকলের রহস্য ( পর্ব ৩ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে একটা নতুন গল্প শেয়ার করে নেবো। গল্পটির নাম হলো "শেষ ফোনকলের রহস্য"। এর তৃতীয় পর্ব শেয়ার করবো। এরপর- কারণ সে ভালো করেই জানে। পাঁচ বছর আগে মেঘলার মৃত্যুর দিন সে কাউকে এমন একটি কথা বলেছিল, যা আজ পর্যন্ত পৃথিবীর আর কোনো মানুষ জানে না। রাতভর অর্ণবের চোখে এক ফোঁটা ঘুম এল না। মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে থাকা ছোট্ট একটি বার্তা যেন তার সমস্ত যুক্তিবোধকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আগামীকাল রাত ২টা ১৭ মিনিটে যদি প্ল্যাটফর্ম ৩-এ না আসো, তাহলে পাঁচ বছর আগের সত্যিটা চিরদিনের জন্য চাপা পড়ে যাবে। বারবার সে মেসেজটি পড়ছিল।
মনে হচ্ছিল, অক্ষরগুলো যেন বদলে যাচ্ছে। প্রতিবার পড়ার সময় শব্দগুলো আরও ভারী হয়ে উঠছে। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় ছিল অন্য একটি। পাঁচ বছর আগের সেই রাতের একটি ঘটনা, একটি কথোপকথন এবং একটি প্রতিশ্রুতির কথা পৃথিবীর আর কেউ জানার কথা নয়। তাহলে এই বার্তাটি পাঠাল কে? সকালে অফিসে যাওয়ার বদলে অর্ণব সোজা শহরের রেলওয়ে স্টেশনের দিকে রওনা দিল। দিনের আলোয় স্টেশনটাকে খুব সাধারণই লাগছিল।হকারদের চিৎকার, চা বিক্রেতার কেটলির শিস এবং লোকজনের ব্যস্ত ছুটোছুটি। কোথাও কোনো রহস্যের চিহ্ন নেই। সে ধীরে ধীরে প্ল্যাটফর্ম নম্বর তিনে পৌঁছাল। প্রথম দেখায় জায়গাটা অন্য প্ল্যাটফর্মগুলোর মতোই।
তবে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে তার মনে হলো, এখানে যেন এক ধরনের অদ্ভুত চাপা নীরবতা আছে। যেন সবাই এই অংশটুকু দ্রুত পেরিয়ে যেতে চায়। ঠিক তখনই পেছন থেকে একটি কণ্ঠ শোনা গেল- বাবু, কাউকে খুঁজছেন? অর্ণব ফিরে তাকাল এবং দেখলো, সত্তরের কাছাকাছি বয়সের একজন চা ওয়ালা। চোখে মোটা চশমা, মুখে অদ্ভুত শান্ত ভাব।অর্ণব হাসার চেষ্টা করল। এরপর বললো- না, এমনি এসেছি। বৃদ্ধ কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর ধীরে ধীরে বললেন- এমনি কেউ এই প্ল্যাটফর্মে আসে না। অর্ণব চমকে উঠল- মানে? বৃদ্ধ কোনো উত্তর না দিয়ে চায়ের কাপ এগিয়ে দিলেন আর বললেন- চা খাবেন? অর্ণব কাপটা হাতে নিল।
চুমুক দিতেই বৃদ্ধ আবার বললেন- পাঁচ বছর আগে এখানেই একটা মেয়ে ট্রেনের নিচে পড়ে মারা গিয়েছিল। অর্ণবের বুক ধক করে উঠল। সে কাপটা প্রায় ফেলে দিচ্ছিল। সে জিজ্ঞাসা করলো- আপনি... কীভাবে জানলেন? বৃদ্ধ এবার সরাসরি তার চোখের দিকে তাকালেন।কারণ সেদিন আমিই শেষবার তাকে জীবিত দেখেছিলাম। অর্ণবের গলাটা শুকিয়ে গেল। সে ধীরে ধীরে বলল- মেয়েটার নাম...? বৃদ্ধ কিছুক্ষণ চুপ রইলেন।তারপর বললেন- নাম মনে নেই। তবে ও বারবার কারও জন্য অপেক্ষা করছিল। কার জন্য? অর্ণব নামে একজনের জন্য। মুহূর্তেই পৃথিবীটা যেন থেমে গেল। অর্ণব বুঝতে পারছিল না, সে দাঁড়িয়ে আছে নাকি পড়ে যাচ্ছে। সে কাঁপা গলায় বলল- আপনি আমার নাম জানলেন কীভাবে? বৃদ্ধ বিস্মিত হলেন।.....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





