নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা ( পর্ব ৪ )

in আমার বাংলা ব্লগ9 hours ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000083997.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে "নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা" গল্পের চতুর্থ পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর মধুমিতা দেবী জিজ্ঞাসা করলো- এই ঘড়িটা...সে যেন হঠাৎ অতীতে ফিরে গেল। তোর বাবা নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন এই ঘড়িটাই বাড়িতে নিয়ে এসেছিল। ঋত্বিক শুনে পুরো স্তব্ধ- কী? হ্যাঁ, সেদিন সারারাত ও ঘুমোয়নি। বারবার বলছিল- সময়কে থামানো যায় না, ভুল হয়ে গেছে। পরের দিন সকালে উঠে দেখি, মানুষটা নেই। শুধু একটা চিঠি পড়ে আছে। মধুমিতা দেবী আলমারির ভেতর থেকে একটি পুরোনো খাম বের করে বললো- আমি আজ পর্যন্ত কাউকে দেখাইনি, ঋত্বিক কাঁপা হাতে চিঠিটা খুলল।

সেখানে বাবার হাতের লেখা- যদি কোনোদিন এই ঘড়ি আবার ফিরে আসে, বুঝবে আমি হারিয়ে যাইনি। আমি এমন একটা জায়গায় আটকে আছি, যেখানে সময় থেমে আছে। যদি কখনও আমার কণ্ঠ শুনতে পাও, বিশ্বাস করো। কিন্তু একটা ভুল কখনও করো না। রাত ৮টা ১৭ মিনিটে ঘড়ির ঢাকনা খুলবে না। তাহলে সময় আবার তার দরজা খুলে দেবে। চিঠির নিচে আরেকটি লাইন ছিল- ডঃ অরিন্দম মুখার্জিকে খুঁজে বের করো।শুধু সেইই সব জানে। ঋত্বিক অবাক হয়ে বলল- ডঃ অরিন্দম মুখার্জি কে? মা মাথা নিচু করল এবং বললো- তোর বাবার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু, দুজনে একসঙ্গে গবেষণা করত। কিন্তু তোর বাবা নিখোঁজ হওয়ার পর উনি সব সম্পর্ক ছিন্ন করে দিয়েছিল।

উনি এখন কোথায়? শুনেছি, দার্জিলিংয়ের কাছে কোনো পাহাড়ি গ্রামে থাকে। হঠাৎ-টিক...টিক...টিক... ঘরের ভেতরে শব্দটা ক্রমশ জোরে হতে লাগল। ঋত্বিক তাকিয়ে দেখল, টেবিলের ওপর রাখা নিষিদ্ধ ঘড়িটার কাঁটা নিজে থেকেই নড়ছে। সময় তখন রাত ৮টা ১৭ মিনিট।কিন্তু দেয়াল ঘড়িতে তখন ১০টা ৪৮। হঠাৎ পকেট ঘড়িটার ঢাকনা নিজে থেকেই খুলে গেল। ভেতরে এবার নতুন কিছু দেখা গেল। আগে যেখানে শুধু বাবার নাম ছিল, এখন সেখানে ধীরে ধীরে আরও কিছু অক্ষর ফুটে উঠছে। রক্তের মতো লাল রঙে লেখা- তাকে বাঁচাতে চাইলে পাহাড়ে এসো। আর নিচে একটি তারিখ- ১২ নভেম্বর, ২০১৬। ঋত্বিক স্তব্ধ হয়ে গেল। কারণ আজকের তারিখ ২০২৬ সাল, তাহলে ঘড়ি দশ বছর আগের একটি তারিখ দেখাচ্ছে কেন?

ঠিক তখনই ঘরের সমস্ত আলো নিভে গেল। অন্ধকারের মধ্যে একটি ফিসফিসে কণ্ঠ ভেসে এল- ঋত্বিক...আমি বেশি সময় ধরে থাকতে পারব না...ওরা বুঝতে পারার আগেই আমাকে খুঁজে বের কর...কারণ সময়ের ওপাশে... আমি একা নই...আর কেউ জেগে উঠেছে...। সেই রাতটা আর এক মুহূর্তের জন্যও ঘুমোতে পারেনি ঋত্বিক। অন্ধকার ঘরে বসে সে বারবার বাবার চিঠিটা পড়ছিল। প্রতিবার পড়ার সময় যেন নতুন কোনো অর্থ খুঁজে পাচ্ছিল। আমি এমন একটা জায়গায় আটকে আছি, যেখানে সময় থেমে আছে- একজন সুস্থ মানুষ এমন কথা কেন লিখবে? কিন্তু সবকিছুর থেকেও ভয়ঙ্কর ছিল শেষের কথাটা- আমি একা নই... আর কেউ জেগে উঠেছে...।...


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png