শেষ ফোনকলের রহস্য ( পর্ব ৬ )

in আমার বাংলা ব্লগyesterday
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000085633.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে একটা নতুন গল্প শেয়ার করে নেবো। গল্পটির নাম হলো "শেষ ফোনকলের রহস্য"। এর ষষ্ঠ পর্ব শেয়ার করবো। তো এরপরে সেই ছবিতে দেখা গেলো- এক পাশে মেঘলা এবং অন্য পাশে একজন অচেনা যুবক।ছবির পেছনে খোদাই করা রয়েছে- M & R, অর্ণব দেখে হতবাক। কিন্তু "R" কে? মেঘলা তো কখনও তাকে এই মানুষের কথা বলেনি। বাড়ি ফিরে সে রাতভর ঘুমাতে পারল না। সকালে লকেটটি নিয়ে শহরের এক পুরোনো জুয়েলারির দোকানে গেল।দোকানের বৃদ্ধ মালিক লকেটটি হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ পরীক্ষা করলেন, তারপর বললেন- এটা অন্তত দশ-বারো বছরের পুরোনো।

আপনি কি বলতে পারবেন, কে বানিয়েছিল? বৃদ্ধ চশমা খুলে চোখ মুছলেন। পেছনের ডিজাইনটা দেখে মনে হচ্ছে, এটা আমাদের দোকানেই তৈরি হয়েছিল। অর্ণব উত্তেজিত হয়ে বলল- রেকর্ড আছে? বৃদ্ধ একটু ভেবে ভেতরের ঘরে গেলেন।প্রায় বিশ মিনিট পরে ধুলোমাখা একটি রেজিস্টার নিয়ে ফিরে এলেন। পাতা উল্টাতে উল্টাতে হঠাৎ থেমে গেলেন এবং বললেন- পেয়ে গেছি। অর্ণব শ্বাস আটকে অপেক্ষা করতে লাগল। রেজিস্টারে লেখা- ক্রেতার নাম: রুদ্রজিৎ রায়, তারিখ- বারো বছর আগে। কিন্তু অর্ণব নামটা আগে কখনও শোনেনি। সেই দিনই সে রুদ্রজিৎ রায় সম্পর্কে খোঁজ শুরু করল। সোশ্যাল মিডিয়া, পুরোনো ভোটার তালিকা, সংবাদপত্র- যেখানে পারল।

কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে কোথাও এই নামে বর্তমান কোনো মানুষের খোঁজ মিলল না। শেষ পর্যন্ত সে একটি পুরোনো সংবাদপত্রের আর্কাইভে একটি ছোট্ট খবর পেল- তরুণ সাংবাদিক রুদ্রজিৎ রায় নিখোঁজ। শেষবার দেখা গিয়েছিল শহরের রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম নম্বর তিনে। খবরটির তারিখ- মেঘলার মৃত্যুর এক বছর আগে। অর্ণবের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। একই প্ল্যাটফর্ম, একই রহস্য এবং এর মধ্যে আবার আরেকজন নিখোঁজ। বিকেলে হঠাৎ তার ফোন বেজে উঠল।আবার সেই অজানা নম্বর। এবার কোনো দ্বিধা না করে সে রিসিভ করল। ওপাশে মেয়েটির কণ্ঠ এবং সেটা আগের চেয়ে অনেক দুর্বল। অর্ণব.. তুমি কে? তুমি কি মেঘলা? কিছুক্ষণ নীরবতা, তারপর উত্তর এল- আমি কে, সেটা এখন গুরুত্বপূর্ণ নয়।

গুরুত্বপূর্ণ হলো, তুমি যাকে বিশ্বাস করছ, সে তোমাকে বাঁচাতে নয়, থামাতে চাইছে। সে জানতে চাইলো- কে? সে বললো- রুদ্র। কথাটা শেষ হওয়ার আগেই প্রচণ্ড বিকট শব্দ। মনে হলো ফোনটা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তারপর আবার সেই ভারী পুরুষ কণ্ঠ- অনেক দূর এগিয়ে গেছ অর্ণব, এবার ফিরে যাও। এরপর লাইন কেটে গেল। অর্ণব সঙ্গে সঙ্গে রুদ্রকে ফোন করল- তার অফিসের সহকর্মী। কিন্তু ফোন বন্ধ। একবার, দু'বার, পাঁচবার, কিন্তু সেই একই উত্তর- "The number is switched off." তার মনে হঠাৎ এক ভয়ঙ্কর সন্দেহ জন্ম নিল। মেয়েটি কি তার সহকর্মী রুদ্রের কথাই বলতে চেয়েছিল?.....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png