মধ্যরাতের অতিথি ( পর্ব ৪ )

in আমার বাংলা ব্লগ2 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000090513.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "মধ্যরাতের অতিথি" এর চতুর্থ পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর সে ধীরে ধীরে ডায়েরিটা খুলল। প্রথম পাতায় কাঁপা হাতে লেখা ছিল- যে এই ডায়েরি পড়বে, সে যেন আজ রাতের পর আর কাউকে বিশ্বাস না করে। অর্ণবের হাত কেঁপে উঠল এবং সে পরের পাতা উল্টাল। সেখানে লেখা- প্রথম রাত সে দরজায় কড়া নাড়বে। পরের পাতা- দ্বিতীয় রাত সে ঘরের ভেতরে আসবে। আরেকটি পাতা- তৃতীয় রাত সে তোমার নাম ধরে ডাকবে। অর্ণব হঠাৎ ডায়েরি বন্ধ করে দিল এবং তার কপালে ঠান্ডা ঘাম। এগুলো কি কোনো পুরোনো মানুষের কল্প কাহিনি? নাকি সে আবার ডায়েরি খুলল। শেষ পাতায় মাত্র একটি বাক্য লেখা- কালি যেন বহু বছর আগেই শুকিয়ে গেছে।

কিন্তু সেই বাক্যটি পড়ে অর্ণবের শরীরের সমস্ত রক্ত যেন জমে গেল।কারণ সেখানে লেখা- আজ রাতেও সে আসবে।কিন্তু এবার অতিথি আমি নই- তুমি। অর্ণব কয়েক সেকেন্ড সেই বাক্যের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর হঠাৎ- তার মোবাইল আবার বেজে উঠল।ট্রিং... ট্রিং..., কিন্তু স্ক্রিনে কোনো নম্বর নেই। শুধু লেখা- UNKNOWN CALLER. অর্ণব কলটি রিসিভ করল না। কিন্তু ফোনটা নিজে থেকেই রিসিভ হয়ে গেল। ওপাশ থেকে এবার কোনো অচেনা কণ্ঠ নয়, একটা পরিচিত কণ্ঠ ভেসে এল।খুব পরিচিত, এতটাই পরিচিত যে অর্ণবের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। কারণ সেই কণ্ঠ তার নিজের। অর্ণব...সে নিঃশ্বাস বন্ধ করে শুনতে লাগল। ওপাশের কণ্ঠ আবার বলল- তুমি এখনও দোতলায় আছ?

অর্ণব কোনো উত্তর দিল না। তার নিজের কণ্ঠই আবার ফিসফিস করে বলল- তাহলে নিচে যেও না। কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।তারপর- কারণ আমি এখন নিচে দাঁড়িয়ে আছি। অর্ণবের চোখ ধীরে ধীরে দরজার দিকে গেল।ঘরের বাইরে করিডোর অন্ধকার আর সেই অন্ধকারের ভেতর থেকে কারও পায়ের শব্দ ভেসে আসছে- ঠক...ঠক...ঠক...। শব্দটা ধীরে ধীরে কাছে আসছে। অর্ণব ডায়েরিটা শক্ত করে ধরে পিছিয়ে গেল। তারপর দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা অদৃশ্য মানুষটি খুব আস্তে করে বলল- অর্ণব... দরজা খোলো। অর্ণব... দরজা খোলো- কণ্ঠটা আবার ভেসে এল। খুব ধীরে এবং খুব নিচু স্বরে। কিন্তু অর্ণবের কাছে সেই কণ্ঠ পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর শব্দ হয়ে উঠেছিল। কারণ কণ্ঠটা অন্য কারও নয়, সেটা ছিল তার নিজের কণ্ঠ।

অর্ণব দরজার দিকে তাকিয়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার ডান হাতে এখনও পুরোনো কালো ডায়েরিটা ধরা এবং বাম হাতে মোবাইল। মোবাইলের স্ক্রিনে কল চলছে, কিন্তু স্ক্রিনে কোনো নম্বর নেই। শুধু UNKNOWN CALLER. অর্ণবের গলা শুকিয়ে কাঠ। সে কাঁপা গলায় বলল- তুমি কে? ওপাশ থেকে কয়েক সেকেন্ড কোনো উত্তর এল না। তারপর তার নিজের কণ্ঠই হাসল খুব আস্তে। তুমি তো জানো আমি কে। অর্ণবের বুকের ভেতর ধক করে উঠল।আমি তোমাকে চিনি না। চেনো- না। চেনো, অর্ণব। কণ্ঠটা এবার একটু পরিষ্কার- অনেক বছর ধরে চেনো। অর্ণব চোখ বন্ধ করে ফেলল এবং তার মাথার ভেতর যেন অসংখ্য স্মৃতি একসঙ্গে ধাক্কা মারতে লাগল- শৈশব, বাবা, মা এবং পুরোনো বাড়ি। একটা নদী, একটা কালো দরজা। তারপর অন্ধকার। সে চোখ খুলে ফেলল- আমি তোমাকে বিশ্বাস করছি না।....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png