অন্তিম সীমানা ( পর্ব ৩ )

in আমার বাংলা ব্লগlast month
হ্যালো বন্ধুরা, আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

ChatGPT Image Nov 24, 2025, 04_21_20 AM.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে "অন্তিম সীমানা" গল্পটির তৃতীয় পর্ব শেয়ার করে নেবো। তো দুই বন্ধু যখন সেই বাংলোতে দেখলো তাদের সাথে অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে এবং সেই সাথে তারা যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, সেখানের মেঝে কেঁপে ওঠে অর্থাৎ যেন মনে হতে লাগে নিচে থেকে কেউ ঠেলছে। এরপর কিছুক্ষন ওইভাবে কাঁপতে কাঁপতে মেঝেটা একটা বিকট শব্দ হয়ে ভেঙে গেলো এবং তার এক বন্ধু সোজা নিচে গর্তে পড়ে গেলো। আরেকজন যেদিক থেকে খোলা পেয়েছে, দৌড়ে সেদিকেই চলে গিয়েছে। আর আরেকজন সেই গর্তের ঘন অন্ধকারের মধ্যে একটা কণ্ঠস্বর শুনতে পেলো-এখন তোমার আর ফিরে যাওয়ার পথ নেই, তুমি আটকা পড়ে গেছো এই ঘন অন্ধকারের মধ্যেই।

এই অন্ধকার গর্তের মধ্যে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং কিছুক্ষন পরে জ্ঞান ফিরলে দেখে সে, একটা ভূগর্বস্থ জায়গায় পড়ে আছে। যেন একটা অদ্ভুত পরিবেশের মধ্যে সে আটকে গেছে। তার কাছে মোবাইল থাকলেও নেটওয়ার্ক ঠিকভাবে পাচ্ছিলো না অর্থাৎ একবার নেটওয়ার্ক আসছে আবার চলে যাচ্ছে। তবে সে সেখানে অন্ধকারের মধ্যে একমাত্র সহযোগী হিসেবে তার ফোনের ফ্ল্যাশলাইট ছিল। ওটা জ্বালিয়েই সবকিছু দেখে, কেমন যেন অদ্ভুত জিনিসপত্র ছিটিয়ে পড়ে আছে। সেখানে জং ধরা হাত কড়া, লোহার তৈরি খাঁচা, ব্রিটিশদের ইউনিফর্ম ইত্যাদি আরো নানা কিছু। যেন এইসব সেই ব্রিটিশ আমলে মানুষদের উপরে নির্যাতন করার এক একটা ইতিহাসের চিহ্ন। সে তো এইসব দেখে ভীষণ ভয় পেয়ে গেলো এবং সেখান থেকে দূরে সরে গেলো।

এরপর ওখানে সে কারো পায়ের শব্দ পেলো, যেন ওইদিকেই এগিয়ে আসছে। ফোনের ফ্ল্যাশলাইট ফেলতেই দেখলো সাদা পোশাক পরিধারী একদল মানুষের মতো হেঁটে আসছে, কিন্তু তাদের চোখ নেই, একটা অদ্ভুত চেহারার পরিধারীর মানুষজন। তারা সামনে এগিয়ে এসে একই স্বরে বলে উঠলো-আমাদের মুক্তি দাও এখান থেকে। সে তো তাদের দেখে এমনিতেই ভয়ে কাঁপছে। কিন্তু সে তাদের জিজ্ঞাসা করলো-তোমরা কারা? ওখান থেকে এক বৃদ্ধ তার দিকে এগিয়ে গেলো, যেন হাড়গুলোই দেখা যাচ্ছে তার শরীরে। তো সে তাকে বললো-আমরা সেই লোকেরা, যাদের একসময় ব্রিটিশরা ধরে এনে এই জঘন্য জায়গায় অকথ্য অত্যাচার করে মেরে ফেলেছিলো। কিন্তু আমরা আজও কেউ মুক্তি পাইনি এখান থেকে। মৃত্যুর পরেও এখানে আটকে আছি।

এরপরেই ওখানে একটা ভয়ঙ্কর সুরে শোনা গেলো-যতক্ষণ না কোনো সত্য প্রকাশ পাবে, ততক্ষন এখান থেকে কেউ বের হতে পারবে না। আর ওর তো ভয়ে অবস্থা শেষ, একপ্রকার হাফ ডেড এর মতো বলা যায়। তো তাও ভয়ে দাঁত এঁটে তাদের বললো-আমি কিভাবে সাহায্য করতে পারি? সেই বৃদ্ধটি তখন বললো- এই নীলকুঠি বাংলোর কাহিনী যে লুকিয়ে রেখেছিলো, তাকে খুঁজে বের করো। সেও এই বাংলোর মধ্যে বন্দি অবস্থায় আছে। বৃদ্ধ এই কথা বলার পরে পেছন থেকে একজন হঠাৎ তার কাঁধে হাত রাখলো এবং সে পরোক্ষনে আঁতকে উঠে ঘুরে দেখলো-একটা যুবক এবং তার রক্তাক্ত মুখে ভয়ঙ্কর দুঃখের ছাপ।....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png



Sort:  
 last month (edited)

অন্তিম সীমানা গল্পের তৃতীয় পর্বটা দারুণ suspense আর আবেগে ভরা।এখানে ভয়, ইতিহাস আর রহস্য খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন দাদা।হয়তো আগের পর্বগুলোর সাথে সংযোগও খুব ভালো হয়েছে।যদিওবা আমি আগের পর্ব গুলো পড়িনি তবে এটাই মনে হলো।গল্পটা পড়তে গিয়ে সত্যিই মনে হলো যেনো সবকিছু চোখের সামনে ঘটছে। আর তাই তো পরের পর্বের জন্য আগ্রহ আরও বেড়ে গেলো।ধন্যবাদ দাদা এতো সুন্দর একটি গল্প শেয়ার করার জন্য।