দুর্গাপূজার প্যান্ডেলে লোকশিল্প, আলোক সজ্জা ও নান্দনিক স্থাপত্য
দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শিল্পচর্চার এক অনন্য প্রকাশ। প্রতি বছর বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে দেখা যায় নতুন নতুন ভাবনা, শিল্পকলা ও স্থাপত্যের অসাধারণ সমন্বয়। এখানে এই প্যান্ডেলে লোকশিল্প, গ্রামীণ ঐতিহ্য এবং আধুনিক আলোক সজ্জার অপূর্ব সংমিশ্রণ আমাকে মুগ্ধ করেছিলো। প্যান্ডেলের ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে ছাদের অসাধারণ সজ্জা, পুরো ছাদ জুড়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিলো ধানের শীষ এবং ছোট ছোট ফুলের অলংকার। ধান বাংলার কৃষিজীবী সংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক। এই ধানের শীষ ব্যবহার করে শিল্পীরা যেন গ্রামীণ জীবনের সৌন্দর্যকে মণ্ডপের মধ্যে তুলে ধরেছে। উপরের দিকে তাকালে মনে হচ্ছিল যেন সোনালি ধানের ক্ষেতের নিচে দাঁড়িয়ে আছি। ফুল ও ধানের এই সমন্বয় পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত এবং ঐতিহ্যমণ্ডিত করে তুলেছিল। এই ধরনের প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার বর্তমান সময়ে পরিবেশ বান্ধব প্যান্ডেল নির্মাণেরও একটি সুন্দর উদাহরণ।
প্যান্ডেলের মূল প্রবেশ পথটি ছিল বিশালাকার এবং অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। সাদা রঙের খোদাই করা নকশা এবং বহু স্তম্ভ বিশিষ্ট স্থাপত্য দর্শনার্থীদের প্রথম দর্শনেই আকৃষ্ট করে। প্রবেশ পথের দুই পাশে সারিবদ্ধ ভাবে স্থাপন করা হয়েছে অসংখ্য লোকজ মানবমূর্তি। প্রতিটি মূর্তির পোশাক, ভঙ্গি ও রঙের ব্যবহার বাংলার গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করেছে। আলোর ব্যবহারে এই মূর্তিগুলো রাতের অন্ধকারে আরও জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। প্রবেশ পথের সামনে স্থাপন করা হয়েছিল বিশাল এক শিবমূর্তি, যা পুরো প্যান্ডেলের অন্যতম আকর্ষণ ছিল। নীলাভ আলোর মধ্যে ধ্যান মগ্ন মহাদেবের এই রূপ দর্শকদের মনে এক ধরনের শান্তি ও ভক্তিভাব সৃষ্টি করছিল। প্যান্ডেলের বিভিন্ন অংশে সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করা হয়েছিল নানা ধরনের লোকজ মানব মূর্তি। এগুলোর পোশাক ও অলংকরণে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতির প্রভাব স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠেছিলো।




