লণ্ঠন ও কেরোসিন বাতির যুগ

ChatGPT Image Mar 9, 2026, 02_36_17 AM.png

Image Created by OpenAI

একটা সময় ছিল যখন বিদ্যুতের আলো এত সহজলভ্য ছিল না। সন্ধ্যা নামলেই গ্রামবাংলা ধীরে ধীরে ডুবে যেত অন্ধকারের জগতে। সেই অন্ধকার দূর করার একমাত্র ভরসা ছিল লণ্ঠন ও কেরোসিন বাতি। আর এই আলো শুধু অন্ধকার দূর করত না, বরং মানুষের জীবনের সাথে জড়িয়ে ছিল আবেগ, স্মৃতি এবং এক বিশেষ জীবনযাত্রার গল্প। গ্রামবাংলার বাড়িগুলোতে সন্ধ্যা নামলেই কেউ না কেউ লণ্ঠন পরিষ্কার করত। কাঁচের চিমনিটা খুলে কাপড় দিয়ে মুছে নেওয়া হত, যাতে আলোটা পরিষ্কার ও উজ্জ্বল হয়। তারপর কেরোসিন তেল ঢেলে সলতেটা ঠিক করে জ্বালানো হত লণ্ঠন। এই লণ্ঠন এর আরেক নাম হলো- হ্যারিকেন। লণ্ঠনের আলো ছিল নরম ও হলদেটে। সেই আলোয় উঠোনে বসে পরিবারের সবাই গল্প করত, কেউ পড়াশোনা করত, আবার কেউ হাতের কাজ করত।

লণ্ঠনের পাশাপাশি কেরোসিন বাতিও ছিল খুবই জনপ্রিয়। বিশেষ করে ছোট ঘর বা রান্নাঘরে কেরোসিন বাতি ব্যবহার করা হত। এই বাতি ছিল সহজ এবং সস্তা, তাই প্রায় সব বাড়িতেই এর ব্যবহার দেখা যেত। কেরোসিন বাতির ছোট্ট শিখা ঘরটাকে খুব বেশি আলোকিত না করলেও, মানুষের দৈনন্দিন কাজ চালানোর জন্য যথেষ্ট ছিল। অনেক সময় দেখতাম মা বা দিদিমারা এই আলোতেই রান্না করতো এবং সেলাইয়ের কাজ করতো। লণ্ঠনের আলোয় পড়াশোনা করা ছিল অনেকের শৈশবের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি। আমি নিজেও একসময় পড়েছি। পরীক্ষার সময় রাত জেগে পড়া, গল্পের বই পড়া কিংবা পরিবারের বড়দের কাছ থেকে গল্প শোনা, সবই যেন এই আলোর সাথে জড়িয়ে ছিল। বর্তমানে সব ঘরে ঘরে LED লাইট এর ব্যবহার এসে এইসব বিলুপ্ত হওয়ার পথে।