মনের ভেতরের যুদ্ধ আর বাইরের হেসে চলা মানুষটা
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
অনেক মানুষকে দেখেছি যাদের মুখে সবসময় হাসি লেগে থাকে, যারা মজার কথা বলে, আশপাশকে হালকা রাখে, অন্যের মন খারাপ থাকলে পাশে দাঁড়ায়। কিন্তু আশ্চর্য লাগে তখনই, যখন একটু গভীরভাবে জানার চেষ্টা করি।তখন বুঝি, এই মানুষগুলোই সবচেয়ে বেশি ভাঙা ভেতরে। মনটা যেন একটা যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে প্রতিদিন নিজের সঙ্গে নিজের যুদ্ধ চলে।
এইসব মানুষ বাইরে যেমন হেসে চলে, ভেতরে ঠিক ততটাই কাঁদে। কেউ জানে না, কতটা কষ্ট লুকিয়ে রাখে তারা। কখনও মনে হয়, চারপাশে এত মানুষ, এত কিছু, তবু মনটা ফাঁকা। ছোট ছোট কথা লাগে, আর সেগুলো সারাদিন মাথায় ঘোরে। এমন না যে এসব মানুষ দুর্বল, বরং তারাই সবচেয়ে বেশি শক্ত। নিজের ভেতরের অশান্তিকে চেপে রেখে যারা আশপাশের মানুষকে স্বস্তি দিতে জানে, তারা তো নিঃসন্দেহে সাহসী।
আমি নিজেও অনেক সময় এমনটা অনুভব করি। বাইরে সবকিছু ঠিকঠাক চলছে, হাসছি, কথা বলছি, ঘুরে বেড়াচ্ছি। অথচ নিজের ঘরে ফিরলে মনে হয়, এই হাসিটুকু কতটা জোর করে ধরে রেখেছি কেউ জানে না। রাতের ঘুম আসতে চায় না, পুরনো কথা, ভুল মানুষ, না-পাওয়ার হিসাব সব একসাথে ঝাঁপিয়ে পরে। তবুও সকালে আবার নতুন করে সাজিয়ে নিই নিজেকে। আবার কেউ বুঝবে না এমন করে হেসে কথা বলি।
এই পৃথিবীতে অনেকেই আছেন যারা শুধু চাই যে, কেউ একজন বুঝুক না বললেও যেনো বুঝে ফেলে কেমন আছি। কিন্তু সবাই তো ব্যস্ত নিজের জীবন নিয়ে। তাই এই মানুষগুলো নিজের মতো করেই সব সামলে নেয়। এক সময় গিয়ে হাসিটাই অভ্যাস হয়ে যায়। কষ্ট পুষে রাখা আর তা ঢেকে হাসি দেয়া।এটাই হয়ে যায় জীবনের রুটিন।
তবে মাঝে মাঝে এই হেসে চলা মানুষগুলোর একটু থেমে যাওয়ার দরকার হয়। একটু বোঝার দরকার হয় যে, সবকিছু ঠিক না থাকলেও ঠিক থাকার ভান করা মানে নিজেকে ধোঁকা দেওয়া। নিজের মনের কষ্টগুলোকে যত্ন করে বুঝে নিতে না পারলে একদিন আর সামলানো যায় না। তাই নিজেকে বোঝা, নিজের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা, নিজের কষ্টকে জায়গা দেওয়া খুব দরকার।
এইরকম মানুষদের কাছ থেকে একটা জিনিস শেখা যায়।জীবন যতই কঠিন হোক, মুখের হাসি কখনও মরে না। তাদের হাসির পেছনে যে যন্ত্রণা থাকে, সেটা বোঝার মতো চোখ থাকলে অনেক কিছু শেখা যায়।

