বন্ধ ঘরের ভেতরের শব্দ ( শেষ পর্ব )

ChatGPT Image Jul 26, 2026, 03_23_26 AM.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে "বন্ধ ঘরের ভেতরের শব্দ" গল্পের শেষ পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- সব মুখ একে একে মিলিয়ে গেল, মেঘলাও। শেষ মুহূর্তে সে পুতুলটা ঈশানের দিকে ছুড়ে দিল। পুতুলটা তার হাতে পড়তেই সবকিছু অদৃশ্য হয়ে গেল। তিন দিন পরে হরিদা সুস্থ হয়ে উঠলেন। ডাক্তাররা বললেন- তিনি প্রবল মানসিক ধাক্কা পেয়েছিলেন। বাড়ির দোতলার শেষ ঘরটা খোলা হল এবার সত্যিই। ভেতরে একটা সাধারণ খালি ঘর, ধুলো জমে আছে। একটা ভাঙা চেয়ার, একটা জানালা আর কিছুই নেই। কোনো রহস্য নয়, কোনো অন্ধকার নয়, কোনো শব্দ নয়। হরিদা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বললেন- শেষ হয়েছে। ঈশান উত্তর দিল না। সে শুধু ঘরের মাঝখানে সেই পুরোনো কাপড়ের পুতুলটা রেখে বেরিয়ে এল।দরজাটা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেল। এইবার কোনো শব্দ হল না। এক বছর পরে ঈশান শহরে ফিরে এসেছে। সে আর ভয়ের গল্প লেখে না, বরং হারিয়ে যাওয়া মানুষদের নিয়ে লেখে।

এক বর্ষার রাতে সে নিজের ফ্ল্যাটে বসে নতুন উপন্যাস লিখছিল। হঠাৎ জানলার কাচে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ল। সে কলম থামাল, মনে হল...কেউ যেন খুব আস্তে দরজায় টোকা দিল- ঠক...ঠক...ঠক...। ঈশান কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে রইল। তারপর নিজেই হেসে ফেলল। না...এবার আর ভুল করব না। সে আবার লিখতে শুরু করল, কিন্তু ঠিক তখনই টেবিলের ওপর রাখা পুরোনো কাপড়ের পুতুলটার একমাত্র সেলাই করা চোখটি...ধীরে ধীরে খুলে গেল। আর ঘরের একেবারে অন্ধকার কোণ থেকে খুব আস্তে, প্রায় শোনা যায় না এমন একটি ফিসফিসানি ভেসে এল - সব দরজা কাঠের হয় না, ঈশান...কিছু দরজা মানুষের ভেতরেও থাকে...। তারপর...নীরবতা।কিন্তু সেই নীরবতার গভীরে, খুব মন দিয়ে শুনলে, যেন এখনও কোথাও একটি বন্ধ ঘরের ভেতর থেকে ক্ষীণ টোকা শোনা যায়- ঠক...ঠক...ঠক...।