ভালোর মুখোশে লুকানো স্বার্থপরতা
আমি অনেকবার দেখেছি, কেউ হয়তো হঠাৎ আমার খুব খোঁজ নিতে শুরু করলো, খুব ভালো ব্যবহার করলো। প্রথমে মনে হয়েছে মানুষটা কত আন্তরিক, কত নির্লোভ। কিন্তু কিছুদিন পরে যখন তার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে তখন আর কোনো খবর নেই, কোনো যোগাযোগ নেই। তখন বুঝতে পারি এই সবকিছুই ছিল একটা সাজানো অভিনয়। আমাদের সমাজে এই ধরনের মানুষের সংখ্যা দিন দিন যেন বাড়ছেই। স্বার্থের জন্য মানুষ যেকোনো ভালো মুখোশ পরে নিতে পারে। তারা মুখে যতোই ভালোবাসার কথা বলুক, আসলে তাদের ভেতরে একরকম শূন্যতা থাকে।
ভালোবাসা যদি স্বার্থমুক্ত না হয় তবে সেটা ভালোবাসা নয়। যেটা শুধু নিজের সুবিধার জন্য মানুষকে ব্যবহার করে সেটা নিছক স্বার্থপরতা। আর এই স্বার্থপরতাই যখন ভালোর মুখোশ পরে আসে, তখন সেটা সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়। কারণ তখন আমরা বুঝতে পারি না কার ওপর বিশ্বাস করব আর কার ওপর করব না। একটা সময় পরে এই অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের মনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। আমরা ধীরে ধীরে মানুষের ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলি।
সবচেয়ে খারাপ লাগে তখন, যখন যাকে প্রাণ থেকে আপন ভেবেছি, যাকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করেছি সেই মানুষটা আমার বিশ্বাস ভেঙে শুধু নিজের স্বার্থ পূরণ করেছে। তখন মনে হয় পৃথিবীতে সত্যিকারের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বলে কিছুই নেই। যদিও এই ভাবনাটা পুরোপুরি ঠিক নয়, তবুও এমন প্রতারণার পর মানুষ ভেতর থেকে অনেকটা দুর্বল হয়ে যায়।
তবে আমি একটা বিষয় শিখেছি, সেটা হলো কাউকে সহজে বিশ্বাস না করা। খুব তাড়াতাড়ি কারোর মায়া মমতার অভিনয়ে ভুলে না যাওয়া। আসলে সময়ের সাথে সাথে মানুষের আসল চেহারাই ধরা পড়ে। কেউ যদি সত্যিই ভালো হয়, সে স্বার্থ ছাড়াই পাশে থাকবে। আর কেউ যদি মুখোশ পরে থাকে, সময় তাকে উন্মোচন করবেই। এজন্য এখন আর কারোর ভালো ব্যবহার দেখলেই আর সহজে মুগ্ধ হই না। আগে দেখে নেই, সেই ব্যবহার কতটা সত্যি। বুঝে নেই, সেখানে কোনো স্বার্থের গন্ধ আছে কিনা। এই অভিজ্ঞতাগুলো আমাকে শিখিয়েছে ভালোর মুখোশে লুকানো স্বার্থপরতাকে চিনে নিতে।

