মধ্যরাতের অতিথি ( পর্ব ৯ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "মধ্যরাতের অতিথি" এর নবম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর শেষ যে দৃশ্যটা তার মনে আছে- দেয়ালের ফাটলের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা সেই মানুষটি।কালো কোট, হাতে লণ্ঠন। আর তার নিজের কণ্ঠে বলা- এবার কি আমাকে চিনতে পারছ? তারপর সব আলো নিভে গিয়েছিল। অর্ণব হাত বাড়িয়ে মেঝে স্পর্শ করল- ঠান্ডা, ভেজা। এরপর সে ধীরে ধীরে উঠে বসল। মাথায় হাত দিয়ে বুঝতে পারল, তার কপালের পাশে সামান্য রক্ত। সম্ভবত আলো নিভে যাওয়ার সময় কোথাও আঘাত পেয়েছিল।এরপর সে মোবাইল খুঁজতে লাগল এবং মেঝেতে হাতড়ে অবশেষে মোবাইলটা পেল। স্ক্রিন ভাঙেনি, ব্যাটারি ৬২ শতাংশ।
সে টর্চ জ্বালাল, আলোর সরু রেখা ঘরের দেয়ালে পড়তেই অর্ণবের বুক কেঁপে উঠল। কিন্তু দেয়ালের সেই ফাটলটা নেই। যেখানে কিছুক্ষণ আগে একটা গর্ত ছিল, সেখানে এখন শুধু পুরোনো পলেস্টার। কোনো চিহ্ন নেই, মেঝেতে পড়ে থাকা ক্যাসেটটাও নেই। ধাতব বাক্সটা নেই, পুরোনো ছবিটাও নেই। শুধু অর্ণব একা ঘরের মাঝখানে বসে আছে। কিছুক্ষণ সে বুঝতেই পারল না, সে কি সত্যিই ঘটনাগুলো দেখেছিল? নাকি মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণে সবকিছু কল্পনা করেছে? হয়তো এই বাড়ির পুরোনো গল্পগুলো নিয়ে অতিরিক্ত ভাবতে ভাবতে তার মস্তিষ্কই তাকে ধোঁকা দিয়েছে। হয়তো কোনো অয়ন নেই, অমল নেই। মধ্যরাতের অতিথিও নেই। কিন্তু ঠিক তখনই তার মোবাইলের স্ক্রিনে একটা নতুন নোটিফিকেশন ভেসে উঠল- ১টি নতুন ভয়েস রেকর্ডিং।
অর্ণবের বুকের ভেতর ধক করে উঠল। রেকর্ডিংয়ের সময়- ১২:১৭ AM, এরপর সে ধীরে ধীরে রেকর্ডিংটি চালু করল। প্রথমে শুধু শোঁ শোঁ শব্দ। তারপর একজন শিশুর কান্না। দাদা... অর্ণবের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। তারপর শিশুটির কণ্ঠ- দাদা, আলো জ্বালিও না। অর্ণব রেকর্ডিং বন্ধ করে দিল। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পর আবার চালু করল। শিশুটি বলছে- ও আলো পছন্দ করে না। তারপর আরেকটা কণ্ঠ- খুব নিচু, ভয়ঙ্কর। কিন্তু অর্ণব আলোতেই আমাকে দেখতে পাবে। রেকর্ডিং এখানেই শেষ। এরপর অর্ণব মোবাইলটা নামিয়ে রাখল এবং তার হাত কাঁপছিল। সে ঘড়ির দিকে তাকাল- ১:০৩ AM, অর্থাৎ প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট কেটে গেছে। কিন্তু তার কাছে মনে হচ্ছে মাত্র কয়েক মিনিট। এরপর সে উঠে দাঁড়াল এবং দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
দরজা খোলা, করিডোরে কোনো শব্দ নেই। অর্ণব ধীরে ধীরে বাইরে বেরিয়ে এল। দোতলার করিডোরে লম্বা অন্ধকার। দূরে একটা জানালা দিয়ে চাঁদের আলো ঢুকছে। সে সিঁড়ির দিকে এগোতে শুরু করল। হঠাৎ তার পেছনে ঠক, এরপর অর্ণব থেমে গেল।পেছনে তাকাল, কিন্তু কেউ নেই। আবার হাঁটল- ঠক। এইবার শব্দটা একটু কাছে, সে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াল। কিন্তু করিডোর ফাঁকা, তারপর একটা খুব ক্ষীণ হাসির শব্দ। শিশুর হাসি, অর্ণব আর দাঁড়াল না। দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে এল। নিচতলার ঘরে এসে প্রথমেই সে দরজা-জানালা পরীক্ষা করল। সব বন্ধ। কিন্তু বাড়ির ভেতর আর কোনো অস্বাভাবিক শব্দ নেই। সে রান্নাঘর থেকে এক গ্লাস জল নিয়ে এক নিঃশ্বাসে খেয়ে ফেলল। তারপর টেবিলে বসে মোবাইলটা হাতে নিল।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





