পুরনো জমিদার বাড়ির বন্ধ ঘর ( পর্ব ১ )
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "পুরনো জমিদার বাড়ির বন্ধ ঘর" গল্পের প্রথম পর্ব শেয়ার করে নেবো। বিকেল থেকেই আকাশটা কেমন যেন মুখ ভার করে ছিল। সূর্যটা অনেক আগেই মেঘের আড়ালে চলে গিয়েছিল। পশ্চিম আকাশে শেষ আলোটুকুও ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছিল। দূরের বাঁশ বাগানের মাথাগুলো কালো হয়ে স্থির ভাবে দাঁড়িয়ে ছিল , অথচ মাঝে মধ্যে হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া এসে শুকনো পাতাগুলোকে উঠোনের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুড়ে দিচ্ছিল। গ্রামের মানুষজন তখন একে একে বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ করতে শুরু করেছে।কারণ আজকের রাতটা অন্যরকম। প্রায় ত্রিশ বছর ধরে গ্রামের প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা রায়চৌধুরী জমিদার বাড়ি নিয়ে এমনিতেই নানা গল্প প্রচলিত ছিল। কেউ বলত, বাড়ির উত্তর দিকের বন্ধ ঘরটায় রাতের বেলা আলো জ্বলে।
কেউ বলত, গভীর রাতে সেখানে কারও হাঁটার শব্দ শোনা যায়। আবার কেউ দাবি করত, ঘরের দরজার ওপাশ থেকে মাঝে মাঝে খুব আস্তে করে কেউ নাকি দরজায় টোকা দেয়। কিন্তু এসব কথাকে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ নিছক গুজব বলেই উড়িয়ে দিত। কারণ সেই ঘরটা তো ত্রিশ বছর ধরে তালাবদ্ধ। আর ত্রিশ বছর ধরে তালাবদ্ধ একটা ঘরের ভেতর থেকে শব্দ আসবে কীভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর কেউ জানত না। তবু সন্ধ্যা নামার পর কেউ ওই বাড়ির কাছ দিয়ে যেতে চাইত না। বিশেষ করে উত্তরের করিডোরের শেষ ঘরটার সামনে দিয়ে নয়। অর্ক রায়চৌধুরী যখন গ্রামের রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল, তখন সন্ধ্যা প্রায় নেমে এসেছে। বয়স ত্রিশের কাছাকাছি, শহরে বড় হয়েছে, পেশায় স্থপতি। কয়েক বছর ধরে কলকাতায় থাকার পর বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে তাকে বাধ্য হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে এই গ্রামে।...
